সিলেট প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প সংরক্ষণে গবেষণা, চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, “পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রিকশাচিত্রের মতো আমাদের বহু লোকশিল্প হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণে গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী এবং নতুন প্রজন্মকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সিলেটের বাতিঘর মিলনায়তনে সুবর্ণযাত্রার উদ্যোগে ফোকলোরবিদ, কবি ও নাট্যকার ড. আমিনুর রহমান সুলতানের গবেষণাগ্রন্থ ‘বাংলাদেশের রিকশাচিত্র: নবায়িত ঐতিহ্য’-এর মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী তন্বী দেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লোকসংস্কৃতি গবেষক ও বাংলা একাডেমি ফেলো সুমনকুমার দাশ এবং গ্রন্থের লেখক ড. আমিনুর রহমান সুলতান। অনুষ্ঠানের শুরুতে সুবর্ণযাত্রার সদস্যদের পরিবেশিত সংগীত পরিবেশনায় অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের দলপ্রধান শেখ মোহাম্মদ রনি। লেখকের জীবনী পাঠ করেন গায়ত্রী রায় এবং গ্রন্থের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন শান্তনা দাশ মৌ।
পরে অতিথিরা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন অরিন্দম দত্ত চন্দন, সুদ্বীপ চৌধুরী, শামসুল বাসিত শেরো, বিধুভূষণ ভট্টাচার্য, সুমন বনিক ও সুরজিৎ দে তনুসহ বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
অনুষ্ঠানে গ্রন্থ থেকে পাঠ করেন প্রমি দেব, গায়ত্রী রায় ও শান্তনা দাশ মৌ। সমাপনী পর্বে লেখক ড. আমিনুর রহমান সুলতান তাঁর ‘বাংলাদেশের রিকশাচিত্র: নবায়িত ঐতিহ্য’ এবং ‘ঢাকাইয়া সরা’ গ্রন্থ দুটি সুবর্ণযাত্রার সদস্যদের জন্য উপহার হিসেবে সভাপতির হাতে তুলে দেন। এছাড়া নাট্যকার সুদ্বীপ চৌধুরী তাঁর সদ্য প্রকাশিত মঞ্চনাটকের বই উপহার দেন।
প্রমি দেব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং জিসান আহমদ উজ্জ্বল ও চঞ্চল বকতি সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে সাহিত্য, নাট্য, আবৃত্তি, আলোকচিত্র ও গণমাধ্যম অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সুবর্ণযাত্রার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
