নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যে বয়সে তার বই-খাতা, স্কুল, খেলাধুলা আর স্বপ্নে ডুবে থাকার কথা ছিল, সেই বয়সেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া সাকিব নামের এক কিশোরকে ভালোবেসে মাত্র ১১ বছর বয়সে বিয়ে করে সে।
এরপর চলতি বছরের শুরুতে জুঁই নিজেই মা হয়। অথচ যে শিশু এখনও নিজের শৈশবটুকুও ঠিকভাবে উপভোগ করার সুযোগ পায়নি, তাকেই আরেকটি শিশুর দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়েছে।
কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি তার দুর্ভোগ। প্রায় তিন মাস আগে স্বামী ও শাশুড়ি তার কোলের শিশুসন্তানকে নিজেদের কাছে রেখে জুঁইকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেয়। নিজের সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অসহায় এই শিশুমা সন্তানের অধিকার ফিরে পেতে লিগ্যাল এইডের সহায়তায় আইনি লড়াই শুরু করে।
অবশেষে, আদালতের আদেশে জুঁই তার সন্তানকে ফিরে পেয়েছে। এই মুহূর্তটি যেমন স্বস্তির, তেমনি পুরো ঘটনাটি আমাদের সমাজের জন্য গভীর বেদনা ও আত্মসমালোচনার বিষয়।
একটি শিশুর জীবনে অকাল প্রেম, বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্তবয়সে মাতৃত্ব এবং পারিবারিক নির্যাতন কখনোই স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এসবের সবচেয়ে বড় মূল্য দেয় সেই শিশুই যার শৈশব, শিক্ষা, মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা একে একে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শিশুদের নিরাপদ, স্নেহময় ও সচেতন পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র সবারই দায়িত্ব। প্রতিটি শিশুর হাতে বই থাকুক, দায়িত্ব নয়; স্বপ্ন থাকুক, ভয় নয় আর তাদের শৈশব হোক নিরাপদ ও আনন্দময়।
