কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

by The Justice Bangla

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্যোগে প্রায় দুই শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। শিশু আর থাকবে নাকো সহিংসতার ঝুঁকিতে, সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র আছে তাদের সাথে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করা হয় এ কর্মসূচি।

রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকালে কেন্দ্র প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের হাতে নতুন পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় দেয়ালিকা উন্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি নিবাসী শিশুদের লেখনীতে প্রকাশিত দেয়ালিকা আলোর পথযাত্রী এর ত্রয়োবিংশ সংখ্যা উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মামনুন আহমেদ অনীক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, কেন্দ্রের শিশুদের হাস্যোজ্জ্বল মুখ দেখেই বোঝা যায় তারা ভালো আছে। তারাই একদিন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রত্যয় বাস্তবায়নে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন নিবাসী শিশু নিজাম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহী নেওয়াজ, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুল আলম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালাম চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক ও সুধীজন।

অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উশু প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করে। পরে অতিথিরা শিশুদের মাঝে ঈদের পোশাক ও প্রসাধনী সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং নিবাসী শিশুদের হাতে তৈরি পুঁতির তাজমহলের প্রতিকৃতি উপহার দেওয়া হয়।

আয়োজনের শেষ পর্বে শিশুদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও আনন্দঘন করে তোলে।

উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। পুরো আয়োজনজুড়ে শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে কেন্দ্র প্রাঙ্গণ।

You may also like

Leave a Comment

;