বইবিমুখতায় ক্ষতিগ্রস্ত তরুণদের চিন্তা ও সৃজনশীলতা: প্রফেসর জহিরুল হক

by The Justice Bangla

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ কমে যাওয়ায় তাদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।

তিনি বলেন, “বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়ার আগ্রহ কমে যাওয়ায় তরুণদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। বইবিমুখ প্রজন্ম দিয়ে মানবিক ও যুক্তিবাদী সমাজ গঠন সম্ভব নয়।”

শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সকালে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে ‘আদর্শ পাঠাগার বইপড়া উৎসব-২০২৬’-এর প্রতিযোগিতামূলক পাঠ কার্যক্রমের উদ্বোধন ও বই বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কুলাউড়া আদর্শ পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নিবন্ধিত ২০০ জন পাঠকের মধ্যে বিনামূল্যে বই বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আগামী ২০ দিনের মধ্যে বই পড়ে একটি ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এতে সেরা পাঠকদের নগদ শিক্ষাবৃত্তি, বই ও শিক্ষা উপকরণ দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে আরও দুটি করে বই উপহার দেওয়া হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কুলাউড়া মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. খুরশিদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক এবং ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. খালিক উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য, ইয়াকুব-তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. এমদাদুল ইসলাম ভুট্টো এবং বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফজলুল হক।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ও লেখক এম এস আলী, তানভীর মাহতাব ফাহিম, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন এবং তামান্না আক্তার তান্নি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষকে হতাশা থেকে মুক্তি দেয়, আত্মবিশ্বাসী করে এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য, বই পড়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করে ২০১৯ সালে মো. খালিক উদ্দিন কুলাউড়া শহরে ‘আদর্শ পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি বইপড়া উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী ও পাঠক অংশ নিয়েছেন।

তবে পাঠাগারটির নিজস্ব কোনো তহবিল নেই। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রবাসী শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় গত সাত বছর ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এবার অনেক আগ্রহী পাঠককে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

আয়োজকরা জানান, সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতা পেলে এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

You may also like

Leave a Comment