মীরসরাইয়ে বাউল গান ও কবিতায় বৈশাখী উৎসব

by The Justice Bangla

মীরসরাই প্রতিনিধিঃ বাউল গান, কবিতা আবৃত্তি ও লোকজ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মীরসরাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বৈশাখী কবিতা উৎসব। স্থানীয় পত্রিকা ‘খবরিকা’র বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবং ‘যুগান্তর স্বজন’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবটি শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে উপজেলা কৃষি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুজন বাউল ও নবনীতার কণ্ঠে দলীয় বাউল গানের মাধ্যমে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। “তোমরা একতারা বাজাইও না, দোতরা বাজাইও না”—এ গানের সুরে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন।

লেখক ও প্রাবন্ধিক সৈয়দ আব্দুল আলীম তুহিনের সভাপতিত্বে এবং কবি ও সাংবাদিক মাহবুব পলাশ ও কবি তাসলিমা চৌধুরী সুরভীর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সুস্থ ও শৈল্পিক ধারার শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব। পাশাপাশি তিনি সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায়, এফবিসিআই সদস্য ও শিক্ষানুরাগী জয়নাল হোসেন বাপ্পী, মীরসরাই পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জাহেদ হোসাইন, মাহবুব হোসেন, প্রফেসর জিতেন্দ্র লাল বড়ুয়া, কবি দিপীকা রানী বড়ুয়া, নাট্যকার মঈন উদ্দিন চৌধুরী সেলিম, কবি মাহমুদ নজরুল, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহাদাত হোসেন লিটন, রনজিত ধর, প্রফেসর আক্তারুজ্জামান, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন, কবি মাজহারুল হক ও মাস্টার হোসাইন সবুজ।

অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খেয়াঘাটের মাঝি’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা থেকে আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়। এছাড়া সংবর্ধিত কবি ও সাহিত্যিকদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাইফুদ্দিন সাকি, শিরিন আফরোজ, সুমি দাস, মারজিয়া খানম সিদ্দিকা, লিপি বড়ুয়া, রায়হানা হাসিব, কাজী নাজরিন, আলমগীর হোসেন, জাহির মুনমুন ও সাংবাদিক রাজিব মজুমদার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিকরা।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাউল ও লোকগীতি পরিবেশনা। এতে গান পরিবেশন করেন সুজন বাউল, নবনীতা, অবন্তিকা, শুভশ্রী, হৃদি, তনুশ্রী, আনন্দিতা ও তানহা।

এছাড়া বৈশাখের ঐতিহ্য ধরে রাখতে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন গ্রামীণ খাবারের, যার মধ্যে ছিল সাজানো হাঁড়িতে রসগোল্লা, খই, বাতাসা ও মোয়া।

উৎসবটি প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বৈশাখের আনন্দ ছড়িয়ে দেয়।

You may also like

Leave a Comment