মোহাম্মদ সাগরঃ নরসিংদীর শিবপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে। অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী নারী দাবি করেন, আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাকে গভীর রাতে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন এবং বিনিময়ে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও অভিযুক্ত নেতার কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় সরকার ঘোষিত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ভিডিওটির সত্যতা এবং অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি বলেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দলেরই একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে তার পা ভেঙে যাওয়ায় তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। এমন অবস্থায় রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত আরও বলেন, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের সময় তিনি তার কাছে কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। তা দিতে না পারার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখেছেন এবং আশরাফ উদ্দিন তার কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযোগটি যদি পরিকল্পিত ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
দ্রষ্টব্য: এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাই অভিযোগগুলো বর্তমানে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য।
