নিজস্ব প্রতিবেদকঃ শুরুটা শৈশবের সেই কৌতূহলী ছেলেটি, যে গ্রামের আকাশের নিচে বসে প্রযুক্তির বই উল্টেপাল্টে পড়ত আজ তিনি হয়ে উঠেছেন তরুণদের অনুপ্রেরণা। তার নাম মোহাম্মদ কামরুল কায়েস। জন্ম ১৯৯০ সালে, বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামের এক শান্ত গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন জ্ঞান ভাগাভাগি করলে তা আরও বেড়ে যায়।
শিক্ষা ও স্বপ্নের বীজ কায়েসের পড়াশোনা শুরু চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলজীবনেই তিনি কম্পিউটার জগতে আকৃষ্ট হন। কলেজে (চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ) থাকাকালীন প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয় তার। পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সেই স্বপ্নকে আরও বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে আসেন।
মানবিকতার পথে প্রথম পদক্ষেপ ২০১০ সালে। বয়স তখন কেবল বিশ। পড়াশোনার পাশাপাশি একদিন তিনি দেখলেন আশেপাশের অসহায় মানুষদের সংগ্রাম। নিজের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সেই মুহূর্তই যেন মোড় ঘুরিয়ে দেয় তার জীবনে। এরপর থেকে মানবিক কাজ তার পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। বন্যাদুর্গত মানুষদের ত্রাণ বিতরণ হোক বা অসুস্থ রোগীর পাশে দাঁড়ানো সব জায়গাতেই তিনি নিজের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেন।
উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা কিন্তু কায়েস শুধু সমাজসেবক হয়েই থেমে থাকতে চাননি। তিনি ভেবেছিলেন যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়, তাহলে অনেক মানুষকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন জি এম আইটি। শুরুটা ছিল ছোট্ট পরিসরে, তবে ধীরে ধীরে এই প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে শতাধিক তরুণের আস্থার কর্মক্ষেত্র। আজ অসংখ্য পরিবারে সুখের ছোঁয়া পৌঁছে দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান।
ভবিষ্যতের দিগন্ত মোহাম্মদ কামরুল কায়েসের স্বপ্ন আরও বড়। তিনি চান প্রযুক্তিকে পৌঁছে দিতে গ্রামীণ জনপদে, যেখানে এখনো অনেকেই ডিজিটাল সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তার বিশ্বাস প্রযুক্তি কেবল শহরে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়লে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি তিনি মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিধি আরও বাড়াতে চান।
কায়েসের গল্প শুধু একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের গল্প নয় এটি মানবিকতার, দায়বদ্ধতার আর স্বপ্নকে বাস্তব করার গল্প। হয়তো একদিন গ্রামের এক সাধারণ ছেলেটির স্বপ্ন থেকেই তৈরি হবে একটি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক বাংলাদেশ।
