নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের ফতিপুর গ্রামে ফেনী আউলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদল সভাপতি শিবলুর বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার আসামি তালিকা ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় ফেনী জেলা তাঁতীদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জিয়াকে আসামি করা হয়েছে। তবে তিনি ওই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকায় নিজেকে মামলার শিকার বলে দাবি করেছেন।
তার অভিযোগ, ঘটনার সময় তিনি ফেনীর বাইরে ছিলেন এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। তবুও তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী ছিলেন ফেনী জেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব মো. ইয়াসিন বাবু। রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, ইয়াসিন বাবু ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সরাসরি হামলার নেতৃত্ব দেন এবং অগ্নিসংযোগের পর নিজস্ব মোটরসাইকেলে করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরিয়ে নেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ঘটনার সময় যুবদল নেতা মানিক এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আরফান ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে মামলার এজাহারে তাদের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্টতা নেই, যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মো. ইয়াসিন বাবুর নাম মামলার আসামির তালিকায় নেই।
এ বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, অর্থের বিনিময়ে তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
এছাড়া ইয়াসিন বাবুর ছত্রছায়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের রক্ষা করা হচ্ছে।
জামাল উদ্দিন জিয়া একাধিকবার ইয়াসিন বাবুর বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে তাকে টার্গেট করা হয়েছে এবং রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন বহিষ্কৃত ব্যক্তি কীভাবে ফেনী জেলা তাঁতীদলের সদস্য সচিব হন? এসব অপরাধীদের বিচার না করে বরং তাদের সুবিধামতো কমিটিতে স্থান দেওয়া হচ্ছে কেন? প্রশ্ন উঠছে কেন্দ্রীয় কমিটি কি ইয়াসিন বাবুর মতো ব্যক্তিদের ইশারায় পরিচালিত হচ্ছে? ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বহিষ্কার না হয়ে বরং তার ইশারায় অন্য কেউ বহিষ্কার হচ্ছে এমন অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির তাঁতীদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মুজিব ‘দ্য জাস্টিস বাংলা’র সাংবাদিককে মুঠোফোনে বলেন, সত্যতা যাচাই করে জামাল উদ্দিন জিয়াকে কমিটি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফেনী জেলা আহ্বায়ক সরোয়ার জাহান শ্রাবণ এবং সদস্য সচিব মো. ইয়াসিন বাবু জামাল উদ্দিন জিয়াকে বরখাস্ত করার জন্য লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ফেনী জেলা তাঁতীদল আহ্বায়ক সরোয়ার জাহান শ্রাবণ বক্তব্যে বলেন, সকল অভিযোগে ইয়াসিন বাবুর নাম উঠে এসেছে তবে তদন্তের বিষয়। পূর্বের একটি সূত্র ধরে বাবু জামালকে মামলায় আসামি করা হয়েছে এবং কমিটি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বিভিন্ন নেতা-কর্মীর সমর্থনে। এছাড়া ইয়াসিন বাবুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, আলোচিত এই ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি। তা না হলে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যেতে পারে এবং নিরপরাধ কেউ শাস্তির মুখোমুখি হতে পারেন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হলে এ ধরনের বিতর্কের অবসান ঘটবে।
