মো. সাকিব চৌধুরী, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী সাগর উপকূলে অবস্থিত ইয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রথমে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। একই তথ্য জানান সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে পৌঁছায়।
স্থানীয় সূত্র ও ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকালে স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাংক থেকে গ্যাস লিকেজ হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে গেলে ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাসে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ ছিল। সকাল ৯টার দিকে স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজের একটি ট্যাংক লিকেজ হয়ে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় কিছু বহিরাগত লোক ঘটনাস্থলে গেলে জমে থাকা গ্যাসে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তবে নিহত ও আহতদের সঠিক সংখ্যা কিংবা পরিচয় তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ তাকে জানিয়েছে, এ ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শনের কথা জানান।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন বলেন, শিপইয়ার্ডে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় শতাধিক বিক্ষুব্ধ লোক শিপইয়ার্ডে গিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে ইয়ার্ড কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। এ সময় কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, গ্যাসের ধরন এবং শিপইয়ার্ডে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
