স্মার্টফোন: যোগাযোগের যন্ত্র না নীরব নজরদারির মাধ্যম?

by The Justice Bangla

ইমাম হোসাইন শাওন | জাস্টিস বাংলাঃ স্যামসাং হোক বা আইফোন হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোনগুলোর আচরণ প্রায় একই। ব্যবহারকারীর অবস্থান, অভ্যাস, পছন্দ-অপছন্দ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত কথোপকথন সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে জমা হচ্ছে ডাটার ভাণ্ডারে। প্রশ্ন উঠছে, স্মার্টফোন কি এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম, নাকি নীরব এক নজরদারির যন্ত্র?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক স্মার্টফোন কেবল কল করা বা বার্তা পাঠানোর ডিভাইস নয়। এগুলো একেকটি শক্তিশালী ডাটা কালেক্টর। ফোনের লোকেশন সার্ভিস, অ্যাপ পারমিশন, মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর প্রতিদিনের চলাফেরা, কথাবার্তা ও আচরণগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন কার্যত একটি ‘২৪ ঘণ্টা খোলা জানালা। ইন্টারনেট সংযুক্ত থাকলেই ডিভাইসটি ব্যবহারকারীর অজান্তে বিপুল পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান করে। এসব ডাটা ব্যবহার করা হয় বিজ্ঞাপন লক্ষ্যভিত্তিক করতে, ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণে এবং কখনো কখনো নিরাপত্তার অজুহাতে নজরদারির কাজে।

তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ বিষয়টিকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন। অনেকেই জানেন না, কোন অ্যাপ কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে কিংবা সেই তথ্য কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রয়োজনের তাগিদে তারা একের পর এক অ্যাপকে অনুমতি দিয়ে দিচ্ছেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এখানেই তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। প্রযুক্তি যত ‘স্মার্ট’ হচ্ছে, ব্যবহারকারী ততটাই অচেতন হয়ে পড়ছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে আমরা কি সত্যিই আগের চেয়ে বেশি নিরাপদ, নাকি প্রযুক্তিই আমাদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে?

তারা বলছেন, সচেতন ব্যবহারই হতে পারে এর একমাত্র সমাধান। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ পারমিশন বন্ধ করা, লোকেশন ও মাইক্রোফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এখন প্রশ্ন আর প্রযুক্তি কতটা উন্নত তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো, এই প্রযুক্তিকে আমরা কতটা সচেতনভাবে ব্যবহার করছি।

You may also like

Leave a Comment