সিলেট প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা, সরকারি ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদারের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, সরকারি ওষুধের ফার্মেসি, স্টোররুম এবং প্রশাসনিক কক্ষে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন দুদক কর্মকর্তারা। এসব স্থানে সংরক্ষিত নথিপত্রও যাচাই করা হয়।
সহকারী পরিচালক জানান, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ এবং টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা অন্যান্য পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, রোগীদের যথাযথ মানসম্মত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় রয়েছে চরম অবহেলা এবং চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। সপ্তাহের অধিকাংশ দিন অনুপস্থিত থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছেন না।
এছাড়াও, সুলেমান নামের হাসপাতালের সাবেক এক কর্মচারী কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমন অভিযোগের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানান দুদক কর্মকর্তা।
দুদকের এই আকস্মিক অভিযানের দিন হাসপাতালে অনুপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান। ফলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনেক বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা ছিল না বলে জানা যায়।
এই অভিযানের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র কিছুটা হলেও উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
