সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের এক বছর : ১৮ আসামি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে, বিচার শুরু হয়নি

by The Justice Bangla

চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। আলোচিত এই হত্যা মামলার ১৭-১৮ জন অভিযুক্ত এখনো পলাতক থাকায় বিচার কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি আদালত। অপরাধীদের খোঁজ এক বছরেও না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে নিহত আলিফের পরিবার।

২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর রাতে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার হন ইসকন বাংলাদেশ–এর সাবেক সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। এই অভিযানটি পরিচালনা করে ডিএমপি গোয়েন্দা শাখা। পরদিন (২৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

নির্দেশকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চিন্ময়ের অনুসারীদের উশৃঙ্খল অবস্থানের মধ্যে প্রিজন ভ্যান প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ অনুসারীরা আলিফের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে এবং আদালত এলাকায় সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।

ঘটনার ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন কোতোয়ালি থানা–এ ৩১ জনের নামসহ আরও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে ৫ মে তদন্ত কর্মকর্তা, সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ করে, চিন্ময়কে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

এরপর ১ জুলাই পুলিশ ‌চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে, যা গ্রহণের শুনানিতে একজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ নাকচ করায় এখন অভিযোগপত্রভুক্ত মোট আসামি ৩৯ জন।

অভিযোগপত্রে থাকা অন্য অভিযুক্তরা হলেন চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস, সুকান্ত দত্ত ও সুকান্ত দত্ত।

চট্টগ্রাম মহানগর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, ৩৯ জন আসামির মধ্যে ২১ জন গ্রেফতার হলেও ১৮ জন এখনো পলাতক। মামলাটি দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান, আগামী ১ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলেকে দিনের আলোয় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এক বছরেও বিচার শুরু হয়নি, আসামিরা এখনো বাইরে আমি দ্রুত বিচার চাই।’ তিনি মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল–এ স্থানান্তরের দাবি জানান এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য সরকারের কাছে জোর আহ্বান জানান।

এদিকে প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার জানান, আজ বুধবার সকাল ১০টায় আদালতের আইনজীবী ভবনের সামনে দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন এবং বিকেল ৩টায় সমিতির মিলনায়তনে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

You may also like

Leave a Comment