লায়ন মোহাম্মদ ইমরান: শিল্পখাতের কান্ডারি ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এক প্রগতিশীল নেতা

by The Justice Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়ে শিল্পোদ্যোক্তা ও মানবিক নেতা লায়ন আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইমরান নিজের অবস্থান গড়েছেন অনন্য উচ্চতায়। সফল ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাতিমান এই নেতা মানবিক সহানুভূতি, শিক্ষাগত প্রজ্ঞা এবং সমাজ উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার জন্য আজ দেশের গর্ব।

Simni Group-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করা লায়ন মোহাম্মদ ইমরান দেশের অন্যতম শিপ রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠানগুলোর পথিকৃত। তাঁর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সিমনী শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ, নিশাত শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ, সিমনী শিপিং লাইন্স লিমিটেড এবং ইউনাইটেড ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড।

শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তিনি একজন স্বীকৃত শিপ ব্রোকার ও এজেন্ট হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি করে দেশের ইস্পাত ও নির্মাণ খাতের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তবে শুধু শিল্পপ্রধান উন্নয়নেই নয়, ইমরান বরাবরই পাশে থেকেছেন সাধারণ মানুষের। করোনা মহামারির সময় নিজের অর্থায়নে অসংখ্য মানুষের মধ্যে খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করে সাহস ও সহানুভূতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। দুর্যোগকালে- বিশেষত বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের সময়- তিনি সরাসরি দুর্গত এলাকায় গিয়ে মানুষের হাতে খাদ্য ও সহায়তা পৌঁছে দেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ইমরান ভাইয়ের কাছে সহায়তা চাইলে কেউ খালি হাতে ফেরে না। তিনি কাউকে নিরাশ করেন না।” এমন মানবিক উদ্যোগে সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার দৃষ্টান্ত স্থাপিত হচ্ছে।

এই মানবিক নেতৃত্বের ভিত্তি তৈরি হয়েছে তাঁর শিক্ষাজীবনের ভিতের ওপর। তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় ফৌজদারহাট কে. এম. হাই স্কুলে। এরপর তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেন ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজ থেকে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে সম্মান ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এই জ্ঞানভিত্তিক ও বিশ্লেষণধর্মী শিক্ষার কারণে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর ও যুক্তিবাদী চিন্তাধারার অধিকারী হন, যা পরবর্তীতে তাঁর পেশাগত সফলতায় সহায়ক হয়।

তরুণ বয়সে পেশাজীবন শুরু করলেও, সময়ের সাথে সাথে তিনি শিপ রিসাইক্লিং খাতে দক্ষতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে শত শত তরুণ চাকরি পেয়েছেন, আবার কেউ কেউ উদ্যোক্তা হয়েছেন।

ইমরান বিশ্বাস করেন- মানবিক মূল্যবোধ, সুশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং শিল্পোন্নয়নের চারটি স্তম্ভে দাঁড়িয়ে গড়ে তোলা সম্ভব একটি স্মার্ট, শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ। তাঁর কথায়, “মানুষ যখন পাশে, ইমরান তখন সামনে।”

আজকের সমাজে যখন অধিকাংশ মানুষ শুধু নিজের উন্নয়নে ব্যস্ত, তখন লায়ন মোহাম্মদ ইমরান নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে চলেছেন অন্যদের জন্য। তাঁর জীবনদর্শন একটাই বার্তা দেয়- শিক্ষা ও সম্পদ তখনই সার্থক, যখন তা সমাজের কাজে আসে। তিনি নিঃসন্দেহে এই যুগের এক নীরব নায়ক, একজন সত্যিকারের গর্বের প্রতিচ্ছবি।

You may also like

Leave a Comment