রেকর্ডের পর শীতলতা স্বর্ণের ঝাঁজ কমল বাজারে দুই দফায় দর পতন হয়েছে মোট ৩০,৩৮৪ টাকা

ভূরাজনীতির উত্তাপ নামতেই ভরিতে বড় দরপতন, ক্রেতা–বিক্রেতায় স্বস্তির নিশ্বাস

by The Justice Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদন | জাস্টিস বাংলাঃ কয়েক দিন আগেও স্বর্ণের দোকানের সামনে দাঁড়ালেই ক্রেতাদের কপালে ভাঁজ পড়ছিল। দাম যেন থামতেই চাইছিল না প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড। কিন্তু সেই উত্তপ্ত বাজারে হঠাৎই পড়েছে শীতলতা। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) নতুন দরে ২২ ক্যারেট হলমার্ক স্বর্ণের দাম এখন প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নেমেছে। গত বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়।
এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম মোট ৩০,৩৮৪ টাকা কমেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত দুই দিনে দু’দফায় এই দাম কমিয়েছে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রথম দফায় ভরিতে দাম কমানো হয় ১৪,৬৩৮ টাকা।
আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দ্বিতীয় দফায় ভরিতে ১৫,৭৪৬ টাকা কমেছে ।

 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শনিবার ৩১ এ জানুয়ারী তালিকা অনুযায়ী , ২২ ক্যারেট হলমার্ক স্বর্ণের দাম এখন প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা। মাত্র দুই দিন আগেই এই দাম ছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ এক লাফে বাজার থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার উত্তাপ নেমে গেছে।

সোনার দোকানিদের ভাষায়, দাম যখন বাড়ে, তখন ক্রেতা কমে যায় এখন দাম কমায় আবার ভিড় ফিরতে পারে।

বাজুসের তালিকা অনুযায়ী ২২ ক্যারেট: প্রতি গ্রাম ২১,৯১৫ টাকা | প্রতি ভরি ২,৫৫,৬১৭ টাকা ২১ ক্যারেট: প্রতি গ্রাম ২০,৯২০ টাকা | প্রতি ভরি ২,৪৪,০১১ টাকা ১৮ ক্যারেট: প্রতি গ্রাম ১৭,৯৩০ টাকা | প্রতি ভরি ২,০৯,১৩৬ টাকা সনাতন পদ্ধতি: প্রতি গ্রাম ১৪,৭৩৫ টাকা | প্রতি ভরি ১,৭১,৮৭০ টাকা

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বর্ণের দাম শুধু দেশের অর্থনীতির ওপর নির্ভর করে না এর বড় চালিকাশক্তি বিশ্বরাজনীতি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে টানাপোড়েন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং সামগ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে সোনার দামকে আকাশছোঁয়া করেছিল। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকেছিলেন।

কিন্তু সেই উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দর নামতে শুরু করে আর তার ঢেউ এসে লাগে বাংলাদেশের বাজারেও।

ক্রেতা-বিক্রেতার মনোভাব
ঢাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ বাড়া দামে অনেক ক্রেতা কেনাকাটা স্থগিত করেছিলেন। এখন দাম কিছুটা কমায় বিয়ের মৌসুমের ক্রেতারা আবার আগ্রহ দেখাতে পারেন।

এক ক্রেতা বললেন, দাম যখন ২ লাখ ৮৬ হাজার হলো, তখন আর সাহস পাইনি। এখন একটু নামায় আবার ভাবছি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি যেভাবে বদলায়, সেভাবেই স্বর্ণের দাম ওঠানামা করবে। তাই এই দরপতন স্থায়ী নাও হতে পারে।

স্বর্ণের বাজার যেন এক রোলার-কোস্টার কখনও চূড়ায়, কখনও খাদে। আর সেই দোলাচলের মধ্যেই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের স্বর্ণবাণিজ্য।

You may also like

Leave a Comment