রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে দুই বছরের সাজিদ: ২৩ ঘণ্টা পরও উদ্ধার হয়নি

by The Justice Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। গর্তটির গভীরতা ১৫০ থেকে ২০০ ফুট বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ১২টা পর্যন্ত টানা ২৩ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত শিশুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট মূল গর্তের পাশ দিয়ে বিকল্প পথ খনন করে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, এস্কেভেটরের মাধ্যমে পাশ থেকে প্রায় ৩৫ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এরপর রেসকিউ টিম সেই খনন করা গর্ত থেকে নলকূপের গর্তে সুড়ঙ্গ তৈরি করছে। তিনি আরও জানান, নলকূপের জন্য খোঁড়া গর্তটির গভীরতা প্রায় ১৫০–২০০ ফুট। শিশুটি এর ভেতরে যে কোনো স্থানে আটকে থাকতে পারে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। সাজিদ তার মায়ের হাত ধরে কাটানো ধানের খেতে হাঁটছিল। একটি মুহূর্তে অসাবধানতাবশত সে গর্তে পড়ে যায়। সাজিদ তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিবুলের ছেলে। রাকিবুল ঢাকায় একটি জুট মিলে ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, গত বছর গভীর নলকূপ বসানোর উদ্দেশ্যে খুঁড়ে রাখা গর্তটি পরবর্তীতে ভরাট করা হলেও বর্ষার কারণে মাটি ধসে গর্তটি আবার তৈরি হয়। কছির উদ্দিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি পানির স্তর যাচাইয়ের জন্য গর্তটি করেছিলেন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নামায় এলাকাটিতে বর্তমানে নতুন করে গভীর নলকূপ বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারো মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। এতে উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনায় প্রশাসনকে বাড়তি বেগ পেতে হয়। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স এবং জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, উদ্ধার কাজ এখনও চলছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

উপজেলাজুড়ে এখন একটাই প্রার্থনা সাজিদ যেন সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসে মায়ের কোলে।

You may also like

Leave a Comment