জাস্টিস বাংলা ডেস্কঃ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যাওয়ার দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এমন ঘটনা সত্য হলে তা বিগত কয়েক দশকের বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের কোনো অভিযানের সঙ্গে অনেকেই ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কিংবা পানামার সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নেরিয়েগাকে গ্রেপ্তারের ঘটনার তুলনা টানছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কোনো দেশের রাজধানী থেকে কোনো ধরনের সরাসরি যুদ্ধ ছাড়াই রাষ্ট্রপ্রধানকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা হলে তা হবে ব্যতিক্রমী ও ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।
পানামা ও ইরাকের নজির
১৯৮৯ সালে পানামার প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নেরিয়েগাকে মাদক পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় পানামায় সামরিক অভিযান চালানো হয় এবং নেরিয়েগাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে কারাবন্দি রাখা হয়। পরে ফ্রান্স ও পানামায় বিচারের মুখোমুখি হয়ে কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযানের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন সেনারা। দীর্ঘ যুদ্ধের পর তাকে আটক করা হয় এবং ২০০৬ সালে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মাদুরোর ঘটনাটি যদি সত্য হয়, তবে সেটি নেরিয়েগা কিংবা সাদ্দামের ঘটনার থেকেও ভিন্ন মাত্রার হবে, কারণ এখানে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণা বা পূর্ণাঙ্গ সামরিক দখলের খবর পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা উত্তেজনা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি দেশটির সরকারকে ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত’ বলে অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন। যদিও এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার।
ভবিষ্যৎ কী?
মাদুরো ও তার স্ত্রীর ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ খুলতে পারে। আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, দেশটি আরও বড় অস্থিরতার দিকে এগোতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এমন অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সতর্ক দৃষ্টিতে নজর রাখা হচ্ছে।
