ঢাকা প্রতিনিধিঃ ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর পূর্বাচল–এ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিনটি পৃথক মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে।
এ মামলায় শেখ হাসিনার পরিবারভুক্ত আরো দু’জন আসামি—মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়—কে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, কোনো আবেদনপত্র ছাড়াই এবং আইনি এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের নামে এসব প্লট বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে।
রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা–কে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলা। আমাদের রাজনৈতিকভাবে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেই পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে। এই রায়গুলোর মূল উদ্দেশ্যই ছিল যাতে আমার মা ও পরিবারের কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।”
রায় ঘোষণা করেছেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) আদালতের এ রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ ও বিজিবি–সহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলেন। প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি, স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্ধারিত প্রবেশ ব্যবস্থা চালু ছিল।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলাগুলোর আইনি ফলাফল রাজনৈতিক পটভূমির কারণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।