ধর্মান্তর ও বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ আইনজীবী জুয়েল দাশের বিরুদ্ধে

কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা; তদন্ত শুরু, হোটেলের সিসিটিভি যাচাই

by The Justice Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার নন্দনকানন এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে বিয়ের প্রলোভন ও ধর্মান্তরের আশ্বাস দিয়ে এক গৃহবধূর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে আইনজীবী জুয়েল দাশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানা পুলিশ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী অধ্যাদেশ ২০২৫) এর ৯(খ) ধারায় মামলা রুজু করেছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে। ভুক্তভোগী নারীর ছদ্মনাম আফিয়া বেগম (৪০)। তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে পরিবারসহ বসবাস করেন। অভিযুক্ত জুয়েল দাশ (৪৩) কোতোয়ালী থানাধীন আন্দরকিল্লা এলাকায় বসবাস করেন এবং পেশায় আইনজীবী।

এজাহার অনুযায়ী, চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় কাজের সূত্রে ভুক্তভোগীর সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়। শুরুতে সম্পর্ক সীমিত থাকলেও ধীরে ধীরে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ২০২৫ সালের জুন থেকে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং তারা নিয়মিত দেখা করতেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে জুয়েল দাশ তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর অভিযুক্ত নিজে ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করবেন বলে বারবার আশ্বাস দেন এবং ভবিষ্যতে সংসার করার প্রতিশ্রুতি দেন। এসব আশ্বাসে ভুক্তভোগী তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, ৯ ডিসেম্বর অভিযুক্তের অনুরোধে ভুক্তভোগী নন্দনকানন এলাকার পুলিশ প্লাজায় সাক্ষাৎ করতে যান। সেখান থেকে জুয়েল দাশ তাকে ধর্মান্তরের মাধ্যমে বিয়ে করার চূড়ান্ত আশ্বাস দিয়ে নন্দনকাননের হোটেল রোজ গার্ডেন আবাসিকের সপ্তম তলার কক্ষ নম্বর ৭০৫-এ নিয়ে যান।

ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার মধ্যে অভিযুক্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, তিনি অভিযুক্তের প্রতিশ্রুতিতে সরল বিশ্বাসে সম্মতি দিয়েছিলেন।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাসায় ফিরে যান। পরবর্তীতে তিনি বিয়ের বিষয়ে একাধিকবার তাগিদ দিলেও অভিযুক্ত তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে জুয়েল দাশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি তাকে বিয়ে করবেন না এবং ভবিষ্যতে কোনো যোগাযোগ রাখবেন না।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জুয়েল দাশ শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে বিয়ের প্রলোভন ও ধর্মান্তরের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং পরে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন যা আইনত প্রতারণা ও নারী নির্যাতনের শামিল।

লোকলজ্জার ভয়ে ভুক্তভোগী প্রথমে বিষয়টি প্রকাশ করেননি। পরে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি কোতোয়ালী থানায় লিখিত এজাহার দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টাইপকৃত এজাহার গ্রহণ করে থানার রেকর্ডে মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ ও অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্তের কাজ শুরু করেছেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিসিটিভি ফুটেজ ও রেজিস্টার যাচাই করা হচ্ছে।

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত শেষে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্মতি আদায় করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন প্রতারণার মাধ্যমে সংঘটিত যৌন অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিশেষ করে ধর্মান্তরের মতো সংবেদনশীল বিষয় ব্যবহার করে বিশ্বাস অর্জন করলে অপরাধের মাত্রা আরও গুরুতর হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর চট্টগ্রামে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ভুক্তভোগীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

বিভিন্ন নারী সংগঠন ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর উল্লেখ করে বলেছে, বিয়ের প্রলোভন ও ধর্মান্তরের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন সামাজিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্থানীয় নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন, ব্যস্ত শহরে অনেক আবাসিক হোটেলে নজরদারি দুর্বল থাকে। এ ধরনের ঘটনা রোধে পুলিশকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

You may also like

Leave a Comment