মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামঃ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ–ভারতের মধ্যে চলমান টানাপড়েন কমবে কি না, তার উত্তর আগামী দিনগুলোতেই খুঁজতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
মো. তৌহিদ হোসেন বলেন,
দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধি এসেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন। তার সফর সংক্ষিপ্ত ছিল, তবে তিনি পুরো অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এরপর চলে গেছেন। এটি একটি ভালো জেসচার এর বেশি কিছু অর্থ খোঁজার প্রয়োজন নেই। এই সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখাই ভালো।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো একান্ত বৈঠক হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান কোনো আলোচনা হয়নি। সেরকম সুযোগও তৈরি হয়নি। অন্যান্য বিদেশি অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকারও ছিলেন, তার সঙ্গেও তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এটি কূটনৈতিক সৌজন্য, যা সবাই মেনে চলে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের যে সামান্য কথাবার্তা হয়েছে, সেখানে রাজনীতির কোনো বিষয় ছিল না। তা ছিল পুরোপুরি সৌজন্যমূলক এবং সবার সামনে। ফলে দ্বিপাক্ষিক কোনো ইস্যু আলোচনার সুযোগ ছিল না।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,
এর উত্তর আপনাদের আগামীতেই খুঁজতে হবে।
এ সময় তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়ার একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি শুধু বাংলাদেশেই নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও রয়েছে। তিনি যে অবস্থানে নিজেকে নিয়ে যেতে পেরেছিলেন, তা সবারই জানা। দলমত নির্বিশেষে দেশের মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা ও শ্রদ্ধা ছিল।
তিনি বলেন, এটি দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই স্বীকৃতি দেয়। তার মৃত্যুতে এবং জানাজায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ করাটা স্বাভাবিক। আমরা বিষয়টিকে সেভাবেই দেখছি।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক।
এ ছাড়া শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে ঢাকায় সফর করেন ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ডুঙ্গেল, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ।