চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানা এলাকার চন্দনপুরা বাসা থেকে তুলে নেওয়ার পর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরুকে। ঘটনাটি ঘটে ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ গভীর রাতে। দীর্ঘ সাত বছর পার হলেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওইদিন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় নুরুর বাসায় হানা দেয় পুলিশ। রাউজান থানার তৎকালীন এসআই জাবেদ পরিবারের সামনে থেকে ঘুমন্ত নুরুল আলমকে বিছানা থেকে তুলে এনে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা বলা হলেও কোনো পরোয়ানা দেখানো হয়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিমের নির্দেশে রাউজান থানার তৎকালীন ওসি কেফায়েত উল্লাহ এসআই জাবেদকে এই অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব দেন। পরে নুরুকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে রাউজানের নোয়াপাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আওয়ামী লীগের স্থানীয় ক্যাডারদের সহায়তায় নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নেয়া হয় তাকে।
পরিবারের ভাষ্যমতে, পুলিশ ফাঁড়িতে কাপড় দিয়ে চোখ-মুখ বেঁধে রশি দিয়ে হাত আটকে নুরুর ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে মাথায় গুলি করে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় কর্ণফুলী নদীর তীরে রাউজান বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলারঘাট এলাকায়। পরদিন ৩০ মার্চ সেখান থেকেই তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর নুরুল আলম নুরুর স্ত্রী সুমি আক্তার চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম, নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির প্রাক্তন ইনচার্জসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
তবে মামলার এক বছর পার হলেও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নুরুর স্ত্রী সুমি আক্তার। তিনি জানান, আসামিদের কয়েকজন এখনো চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নুরুর হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার পেতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
