চট্টগ্রামে অস্ত্র ব্যবসার অন্ধকার জগত: ডিবির অভিযানে ধরা খেল তিন অস্ত্র বিক্রেতা

by The Justice Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী থানার মইজ্যারটেক কালারপুল এলাকায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে অবৈধ অস্ত্র বিক্রেতা দলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও তিন রাউন্ড কার্তুজ।

এ অভিযানের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হলো, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো সক্রিয় রয়েছে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচার নেটওয়ার্ক, যা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর-দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ হাবিবুর রহমান প্রাং-এর নির্দেশনায় বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে অভিযান চালানো হয়।

ডিবি (উত্তর) বিভাগের টিম-৪ এর নেতৃত্ব দেন এসআই ইকবাল হোসেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি ও তার টিম মইজ্যারটেক কালারপুল রোডের শাহ আমানত গ্যাস পেট্রোল পাম্প এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে অস্ত্র বিক্রয়ের গোপন লেনদেনের সময় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো—
মোঃ নেজাম (২৭), পিতা মোঃ শফিক, সাং-বানিগ্রাম, খলিফার বাড়ি, থানা-পটিয়া, চট্টগ্রাম
মোঃ মুনছুর (৪২), পিতা সামছুল আলম, সাং-বানিগ্রাম, আবুল হোসেন ফকিরের বাড়ি, থানা-পটিয়া, চট্টগ্রাম
জিসান আলম (১৮), পিতা আবু সৈয়দ, সাং-বানিগ্রাম, খলিফার বাড়ি, থানা-পটিয়া, চট্টগ্রাম

তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় একটি দেশীয় তৈরি এলজি ও তিন রাউন্ড কার্তুজ।

ডিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অস্ত্র কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। এসব অস্ত্র মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি এবং এলাকার আধিপত্য বিস্তারের জন্য ব্যবহার করা হতো।

নগরীতে অস্ত্র ব্যবসার নেপথ্যচিত্র
চট্টগ্রাম নগরী দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অস্ত্রের বাজার হিসেবে পরিচিত। পাহাড়ি এলাকা ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে বিভিন্ন চোরাপথে অস্ত্র এনে নগরীতে বিক্রি করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। এই অস্ত্রগুলো হাতে পাচ্ছে কিশোর গ্যাং, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, এমনকি চাঁদাবাজ চক্রও।

অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত চক্রগুলো একদিকে নিজেদের লাভ করছে, অন্যদিকে সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে। প্রতিনিয়ত খুনোখুনির ঘটনায় ব্যবহৃত হচ্ছে এসব অস্ত্র।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রাম শহরে অস্ত্র ব্যবসা ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চলছে। সম্প্রতি কয়েকটি চক্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার কারণে সমাজে এক ধরনের ভীতি তৈরি হচ্ছে। তরুণদের হাতে অস্ত্র পৌঁছে যাওয়ায় তারা অল্প বয়সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এতে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, সামাজিক নিরাপত্তাও মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে।

গ্রেফতার তিন আসামির বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ বলছে, অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক উন্মোচন এবং পেছনের হোতাদের গ্রেফতার করতে তদন্ত আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

You may also like

Leave a Comment