জুবায়ের, গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি, সিলেটঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নাম ব্যবহার করে “গোয়াইনঘাট ট্রাভেলস” নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে মুজিবুর রহমান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাউকে বিদেশে পাঠাননি এবং নেওয়া অর্থও ফেরত দেননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন মুজিবুর রহমান। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি এবং প্রতিশ্রুতিও পূরণ করেননি।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তার দেওয়া বিভিন্ন আশ্বাস ও কথাবার্তার অসংগতি প্রমাণসহ তাকে সতর্ক করা হয় এবং নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়। স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠকের মাধ্যমে তিনি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ ফেরত দেননি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস পর থেকে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ভুক্তভোগীদের ব্লক করে দেন। পরে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তার পরিবারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। তার পরিবারও টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে জানা গেছে, মুজিবুর রহমান সিলেট শহরের বাইরে অবস্থান করছেন এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শুধু একটি পরিবার নয়—একইভাবে আরও অনেক সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা অন্য ভুক্তভোগীদেরও প্রমাণসহ আইনি সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, কোনো ট্রাভেলস এজেন্সি বা বিদেশে পাঠানোর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করার আগে অবশ্যই তাদের লাইসেন্স, সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নেওয়া উচিত।
