গুগল ওয়ালেট চালুর উদ্যোগ: ডিজিটাল অর্থনীতি এক নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ

by The Justice Bangla

মোঃ ইফতেখার উদ্দিন সাকিবঃ  দেশের ব্যাংকিং অবকাঠামোর সাথে গুগল ওয়ালেটের সমন্বয় না থাকায় এতদিন বাংলাদেশে এই সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রযুক্তি-প্রেমী শহুরে ব্যবহারকারীদের মধ্যে এনএফসি পেমেন্টের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সিটি ব্যাংক ও গুগল একসাথে গুগল ওয়ালেট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এই উদ্যোগ সফল হলে ব্যবহারকারীরা কনট্যাক্টলেস পয়েন্ট অফ সেল (পিওএস) টার্মিনালে সহজেই ‘ট্যাপ অ্যান্ড গো’ পেমেন্ট করতে পারবেন। এটি তাদের কেনাকাটাকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও আধুনিক করবে।

ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “এর প্রভাব ব্যাপক। খুচরা লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি ই-কমার্সের অভিজ্ঞতাও আরও মসৃণ হবে। অন্যান্য ব্যাংক এই পথে এগোলে বাংলাদেশের ডিজিটাল ফাইন্যান্স ইকোসিস্টেম এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে।”

আন্তর্জাতিক অগ্রগতি

ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে গুগল পে ইতোমধ্যেই জনপ্রিয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতে মোট ডিজিটাল লেনদেনের ৯৩ শতাংশ ইউপিআই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যেখানে গুগল পে-এর অবদান উল্লেখযোগ্য।

সম্প্রতি পাকিস্তানেও গুগল পে চালু হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় এই প্ল্যাটফর্মের দ্রুত সম্প্রসারণের সাক্ষ্য বহন করে।

বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিকতা ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে বিকাশ, রকেট, উপায়সহ বিভিন্ন স্থানীয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ইতোমধ্যেই জনপ্রিয়। গড়ে প্রতিদিন দেড় কোটি লেনদেন পরিচালনা করে দেশের সবচেয়ে বড় এমএফএস অপারেটর বিকাশ।

বিকাশের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “আমরা চাই সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হোক। গুগল পে একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। এর প্রভাব আমাদের স্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কী ধরনের হবে, সেটাও বিবেচনা করতে হবে।”

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন

গুগল ওয়ালেট চালুর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি অনুমোদন প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যাংক কার্ড অ্যাপে যুক্ত করে লেনদেন সম্পন্ন করবেন। তবে ব্যাংকগুলোকে সেবা চালুর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

ফি এবং চার্জ

গুগল ওয়ালেট সাধারণত ব্যবহারকারীদের কেনাকাটা বা অনলাইন পেমেন্টে কোনো চার্জ করে না। তবে কার্ডধারীর ব্যাংক তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী ফি ধার্য করতে পারে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ১-৩ শতাংশ পর্যন্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা

গুগল ওয়ালেট চালু হলে স্থানীয় প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। এতে ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ ঘটবে। তবে স্থানীয় এমএফএস অপারেটরদের মধ্যে থাকবে প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ

You may also like

Leave a Comment