মোঃ খালেদ বিন সবুরঃ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিলেও, বাস্তবতা বলছে ক্ষমতার ছায়া এখনো রাষ্ট্রযন্ত্রের গভীরে সক্রিয়। প্রশাসন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দূর থেকেই কালকাঠি নাড়ানোর অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
যে বিপ্লব মানুষের অধিকার আর ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, সেই বিপ্লবীদেরই আজ একে একে টার্গেট করা হচ্ছে। কেউ ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে নিহত হচ্ছে, কেউ গ্রেপ্তার হয়ে বছরের পর বছর বিচারহীনতার অন্ধকারে ঝুলে থাকছে। বিচার নয় এ যেন পরিকল্পিত শাস্তির নাটক; যেখানে রায় আগেই লেখা, আদালত শুধু মঞ্চ।
এই দেশে বিপ্লব মানেই কি মৃত্যুদণ্ড? অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানেই কি রাষ্ট্রের শত্রু হয়ে যাওয়া? যদি তাই হয়, তবে পরিবর্তনের কথা বলা নিছক প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।
সবচেয়ে ভয়ংকর সত্য হলো আমরা অন্যের জন্য ন্যায়বিচার চাইতে চাইতে নিজের জন্য ন্যায়বিচার চাওয়ার সময় হারিয়ে ফেলছি। আজ যখন নিজের দরজায় অন্যায় কড়া নাড়ছে, তখন আর প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ইতিহাস সাক্ষী ন্যায়বিচার যখন নির্বাচিত হয়, তখন রাষ্ট্র ধীরে ধীরে জুলুমের যন্ত্রে পরিণত হয়। আজ যদি ক্ষমতাচ্যুত একজন নেত্রী বিদেশে বসে রাষ্ট্রযন্ত্রের একটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তবে প্রশ্ন উঠবেই এই দেশ আসলে কার নিয়ন্ত্রণে?
এটা আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গল্প নয়। এটা রাষ্ট্রের অস্তিত্ব, আইনের শাসন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রশ্ন। এখনই যদি সত্যিকারের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হয়, তবে পরিবর্তন শব্দটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত হবে।
