আগস্টে সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনার ভয়াবহ চিত্র

নিহত ৫৬৩, আহত ১,২৬১ – যাত্রী কল্যাণ সমিতি

by The Justice Bangla

বিশেষ প্রতিনিধিঃ বিদায়ী আগস্ট মাসও বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌ নিরাপত্তার জন্য এক শোকাবহ সময় হয়ে দাঁড়াল। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে ৫৫২টি দুর্ঘটনায় ৫৬৩ জন নিহত এবং ১,২৬১ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রাধান্য
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সড়কপথে। ৪৯৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫০২ জন, আহত হয়েছেন ১,২৩২ জন। শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই দাঁড়িয়েছে ১৬৫টি, যেখানে ১৭৬ জন নিহত হয়েছেন। যা মোট দুর্ঘটনার এক-তৃতীয়াংশ।

অঞ্চলভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে—১৩২টি ঘটনায় ১২৮ জন নিহত ও ৩৩৩ জন আহত। অন্যদিকে বরিশাল বিভাগে দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম—১৫টি ঘটনায় ১৪ জন নিহত ও ২২ জন আহত।

রেল ও নৌপথের দুর্ঘটনা
রেলপথে আগস্ট মাসে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত এবং ৭ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত, ২২ জন আহত এবং ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যা নৌনিরাপত্তার শঙ্কাজনক বাস্তবতা তুলে ধরে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে—১৪২ জন পরিবহনের চালক
৮২ জন পথচারী ৭৩ জন নারী ৫১ জন শিক্ষার্থী ৩৮ জন শিশু
এছাড়া শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকও রয়েছেন।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়েছে—বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও গর্ত
সড়কে রোড মার্কিং, আলোকসজ্জা ও ডিভাইডারের অভাব
অবাধে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, সিএনজি ও নছিমন-করিমনের চলাচল,উল্টোপথে গাড়ি চালানো ও চাঁদাবাজি অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন
অতিরিক্ত যাত্রীবহন ও বেপরোয়া ড্রাইভিং

যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনা রোধে ১৩ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— সড়ক-মহাসড়কের জরুরি মেরামত ও মানসম্মত নির্মাণ
জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে আলোকসজ্জা ও রোড মার্কিং
দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ ও ডিজিটাল ফিটনেস ব্যবস্থা
সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন স্ক্র্যাপ চালকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ ও সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ

আগস্ট মাসের এই পরিসংখ্যান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে—বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। সড়কের গর্ত থেকে শুরু করে যানবাহনের ফিটনেসহীনতা পর্যন্ত নানা কারণে প্রতিদিনই ঝরে যাচ্ছে প্রাণ। যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন না হলে এ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

You may also like

Leave a Comment