নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের আস-সালাম টাওয়ারে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঘিরে যে ঘটনা নগর জুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তার পেছনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের দাবি তুলেছেন অভিযুক্ত এনসিপি নেতারা।
সংশ্লিষ্ট এনসিপি নেতাদের দাবি, তাদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন দলেরই আরেক সমন্বয়কারী সদস্য রোহান রহমান।
গেল ২৭ জানুয়ারি দুপুর ১টার দিকে আগ্রাবাদের আস-সালাম টাওয়ারে অবস্থিত ‘সাজেদা ট্রেডিং’ কার্যালয়ে সাতজন যুবক প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের এনসিপি নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়।
তবে অভিযুক্ত এনসিপি নেতাদের দাবি, তারা কোনো চাঁদা দাবি করেননি এবং সেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ও দেননি।
এনসিপির সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, তারা একটি নির্দিষ্ট সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আজীজুর রহমানকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে যান। ওই তথ্যদাতা ছিলেন রোহান রহমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, যিনি আজীজুর রহমানকে ‘মাফিয়া’ দাবি করেন এবং বলেন, তার কথায় চট্টগ্রামের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও পুলিশ কর্মকর্তারা চলেন।
ঘটনার শুরু থেকেই রোহান রহমান একদিকে আজীজুর রহমানকে ধরতে উসকানি দেন, অন্যদিকে প্রশাসন নিয়ে অভিযানে গেলে তাকেই ‘সেভ’ করতে ঘটনাস্থলে হাজির হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসন নিয়ে যাওয়ার আগেই রোহান রহমান তার সহযোগী জাওয়াদকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পরবর্তীতে নিজেও সেখানে উপস্থিত হয়ে উচ্চবাচ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, রোহান রহমান ঘটনাস্থলে প্রকাশ্যে বলেন, ‘আমি লীগ বাঁচাবো, আমি লীগের সাথে ঘুমাই থাকি, এই অফিস আমার, আগ্রাবাদ আমার।’
একইসঙ্গে নিজেকে বাঁচাতে বারবার ‘চাঁদাবাজি হতে দেব না’ বলে চিৎকার করেন, যা পরবর্তীতে গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সমন্বয়কারী সদস্য মো. আজাদ বলেন, যদি সত্যিই চাঁদাবাজির চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে কেন তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হয়নি?
এ ছাড়াও তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, কেন কথোপকথনের কোনো অডিও রেকর্ড বা পরিষ্কার ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি?
ঘটনার অন্য এক অভিযুক্ত চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সমন্বয়কারী সদস্য আজগর আলি আশিক দাবি করেন, আমাদের ফাঁসাতেই চাঁদার দাবির এই নাটক সাজানো হয়েছে।
তিনি বলেন, তারা একেক সময় একেক রকম টাকার অংক বলছে। একবার বলে আমরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছি, আবার বলছে ৫ কোটি টাকা। মূলত আমাদের ফাঁসাতেই এমন নাটক করছে তারা।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল ৫টার দিকে সিভিল পোশাকে ডবলমুরিং থানাধীন দেওয়ানহাট ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহেদ উল্লাহ জামানসহ পুলিশ সদস্যরা সেখানে তল্লাশি চালান। তবে কোনো অবৈধ কিছু না পেয়ে তারা খালি হাতেই ফিরে যান।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ন সদস্য সচিব মোহাম্মদ মীর বলেন, আমরা সুর্নিদিষ্ট তথ্যে ভিত্তিতে প্রশাসনের লোকজন নিয়ে ওই অফিসে যাই। তবে প্রশাসন সন্দেহ জনক কিছু না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান। আর এই ঘটনাকেই চাঁদাবাজির রূপ দিতে চেয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সমন্বয়কারী সদস্য রোহান রহমান।
তবে ঘটনার পরপর অভিযুক্ত এনসিপি নেতারা স্পষ্ট করে জানান, যদি চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তারা দেশের আইন অনুযায়ী যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন এবং স্বেচ্ছায় দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
এ সময় তারা আরো বলেন, যদি তারা অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় তবে রোহান রহমান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার, মালিক, রিসিপশনিস্টের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন।
এছাড়াও অভিযুক্ত এনসিপি নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রোহান রহমানের সাথে এ সংশ্লিষ্ট কথোপকথনের একাধিক তাদের কাছে রয়েছে, যা প্রয়োজনে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের স্বার্থে উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে এ ঘটনা ও চাঁদাদাবির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ‘সাজেদা ট্রেডিং’ নামের প্রতিষ্ঠানটি ম্যানেজার আক্তার আলী বাচ্চুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি নেহাতই ভুল বোঝাবুঝি। তার অফিসের পিয়নের ভুলের কারণেই ঘটনাটি এতোদূর এগিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, তার অফিসের পিয়ন বিষয়টি ঠিক ভাবে বুঝতে পারেনি এবং এই ঘটনা অনেক আগেই সমাধান হয়েছে।
তবে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সমন্বয়কারী সদস্য রোহান রহমান অভিযুক্ত এনসিপি নেতাদের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘সাজেদা ট্রেডিং’ নামের প্রতিষ্ঠান থেকে কল পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। এ ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।
