ইমাম হোসেন শাওন | জাস্টিস বাংলাঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।
সাক্ষাৎ শেষে ড. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কয়েকটি ছবি পোস্ট করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের “ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, তারেক রহমানের এই আগমন জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার নতুন অধ্যায় সূচনা করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, সার্বভৌম ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করে যাবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক শাসনের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
আলোচনায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধ, বিরোধী দলীয় কর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, কোনো নাগরিক যেন ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন এটি সবার যৌথ দায়িত্ব।
জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করার কথা জানালেও আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আপসহীন থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ড. শফিকুর রহমান। সরকারের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সমর্থন থাকবে, তবে জবাবদিহিতার প্রশ্নে দল সোচ্চার থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং নির্বাচনের আগে দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
