নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রামঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে চট্রগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি।
দীর্ঘ ২০ বছর পর শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি পৌঁছান বন্দর নগরীতে।
তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এই বছরের ৯ জানুয়ারি তাঁকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রামে এলেন তিনি।
চট্রগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
আজ রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তারেক রহমান সমাবেশস্থলে ঢুকে মঞ্চে না উঠে নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি মঞ্চে ওঠেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন।
বিএনপি নির্বাচিত হলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে।
আমরা যতই পরিকল্পনা গ্রহণ করি না কেন, যদি আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে আমাদের কোনো পরিকল্পনা সফল হবে না। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই আমাদের দুটো বিষয়ে খুব কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। কারণ, এই দুটো বিষয় (দুর্নীতি ও নিরাপত্তা) বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের জনগণকে তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বিগত দিনগুলোতে বঞ্চিত করেছে।’
বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঘোষণা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে। যেই দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ (বাণিজ্যিক রাজধানী করার) গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেনি।’
বিগত ১৫ বছরে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু এই চট্টগ্রামের মানুষ নয়, সারা দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সারা দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক চাঙ্গা হবে। যাতে করে মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে খালেদা জিয়ার এই উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়ন করবে বিএনপি।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উদয় কুমার বড়ুয়া, সাঈদ আল নোমান, মোহাম্মদ নাজিমুর রহমান, সরোয়ার জামাল নিজাম, আবু সুফিয়ান, মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী, সুকোমল বড়ুয়া, আসলাম চৌধুরী, গোলাম আকবর খন্দকার, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, এস এম ফজলুল হক, হারুনুর রশিদ, এম নাজিম উদ্দীন, আবুল হাশেম বক্কর, আব্দুল ওয়াদুদ ভুইঁয়া, লুৎফুর রহমান কাজল, ম্যামাসিং, জেরি প্রু চৌধুরী, বেগম নুরে আরা সাফা, ইদ্রিস মিয়া, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, মোস্তফা কামাল, দীপেন দেওয়ান তালুকদার, মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, মোহাম্মদ এনামুল হক, নাজমুল মোস্তফা আমিন, মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, মোহাম্মদ নুরুল আমিন, ছাত্রদলের সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, নগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, দেশকে বাঁচাতে হলে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করাই এখন সময়ের দাবি।”
বিএনপির চেয়ারম্যানের আগমনকে ঘিরে ভোর থেকে মাঠে আসতে শুরু করেন নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলা থেকে এসেছেন নেতা-কর্মীরা।
