ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের আদেশ

by The Justice Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেন। বিচারিক প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন— অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এই মামলায় ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার পাশাপাশি আরও পাঁচজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা অভিযুক্ত রয়েছেন। তারা হলেন— কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। ট্রাইব্যুনাল প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই বিচার শুরুর আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম। শুনানিতে তারা আসামিদের ব্যক্তিগত দায় ও ভূমিকার বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে তিনটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পাঠ করে শোনানো হয়। পাশাপাশি জুলাই-আগস্টে চলমান আন্দোলন দমনে হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানায়। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের মক্কেলদের সঙ্গে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাব উল্লেখ করে তারা অব্যাহতির আবেদন করেন।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য ২২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিনে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি আসামিদের আত্মসমর্পণের দিন ধার্য থাকলেও কেউ আদালতে হাজির হননি। পরে তাদের পলাতক ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেন।

এর আগে পরোয়ানা জারির পর ২৯ ডিসেম্বর আসামিদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হলেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে তাদের কাউকে স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানায় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

You may also like

Leave a Comment