আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আটক তরুণ এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও পারিবারিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
নরওয়েভিত্তিক কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাউ’ জানায়, গত বৃহস্পতিবার তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের ফারদিস শহর থেকে এরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ তার পরিবারকে জানায়, বুধবার তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের ঠিক আগে দণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়।
সংস্থাটির দাবি, সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে মাত্র দুই দিনের তড়িঘড়ি বিচার শেষে এরফানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। কেন এত দ্রুত এই রায় দেওয়া হলো, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এরফান সোলতানি ফারদিস শহরের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন পোশাক ব্যবসায়ী। পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর থেকে তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি তার বোন একজন আইনজীবী হওয়া সত্ত্বেও মামলার আইনি লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
হেনগাউয়ের কর্মকর্তা আউয়ার শেখি বলেন, “এরফান কেবল নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন। শুধুমাত্র এই কারণেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এরফানের মতো আরও অনেক ঘটনার তথ্য সামনে আসছে না।
এ বিষয়ে ইরানের বিচার বিভাগ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর পক্ষেও প্রকৃত তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (এইচআরএএনএ) দাবি করেছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জন শিশু। এ ছাড়া অন্তত ১৮ হাজার ৪৩৪ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা হেনগাউ এক বিবৃতিতে বলেছে, এরফান সোলতানির বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ইরান সরকার বিক্ষোভ দমনে মৃত্যুদণ্ডকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
