মোঃ জামাল উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার সিলেটঃ শুষ্ক মৌসুম ঘিরে সিলেট সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। জেলার পাহাড়, টিলার পর গোচারণ, কৃষি জমির টপসয়েল কাটায় রীতিমতো তান্ডব চালাচ্ছে মাটি খেকো চক্র। প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকায়, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুম এলেই গোচারণ ও কৃষি জমির মাটি কাটায় হিড়িক পড়ে যায়। জৈব গুণাগুণ সম্পন্ন কৃষি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করার ফলে এক দিকে কমছে কৃষি জমি, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে গবাদিপশু ও কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ডের সত্র মাঝপাড়া পুর্ব ইলামের বন (গোচারণ ভূমির মাটি), দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ থেকে সংঘবদ্ধ মাটি খেকো চক্র অবৈধভাবে কেনা বেচা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় হাজার একরের এই গোচারণ ভূমির মাটি বছরের পর বছর থেকে অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করা হলেও, তা ঠেকাতে উল্লেখযোগ্য কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন।
জালালাবাদ থানাধীন বিলাজুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কয়েকশো মিটারের মধ্যে থাকা এই গোচারণ ভূমির মাটি বিক্রি করেই চক্রের কয়েকজন হয়েছে লাখপতি। চলতি শুষ্ক মৌসুমে আবারও সেখানে মাটি খেকো চক্র থাবা বসালে, চক্রের সদস্যদের নাম উল্লেখ পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর সম্বলিত লিখিত অভিযোগ সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রদান করেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, গোচারণ ভূমির পাশেই রয়েছে বিলাজুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং শীবের বাজার পুলিশ ফাড়ি। রাতের আঁধারে এক্সকাভেটর (ভেকু) মেশিন দিয়ে মাটি কাটা ও ট্রাক যোগে পরিবহন করা হলেও অদৃশ্য কারণে ব্যবস্থা নেয়নি ফাড়ি পুলিশ ও ভূমি অফিস। সরেজমিন গিয়ে মাটি কাটার সত্যতা পাওয়া যায়, এসময় বিগত বছরগুলোতে মাটি কেটে বিক্রি করার ফলে সৃষ্ট প্রায় শতাধিক পুকুর আকৃতির গর্ত দেখতে পাওয়া যায়।
এছাড়াও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ ও এয়ারপোর্ট থানাধীন, উপজেলার টুকের বাজার ইউনিয়ন পরিষদ ৩নং ওয়ার্ডের চাতল পুর্ব চিরাবন, একই ওয়ার্ডের কামারটিলা উত্তর নয়া বিল, মোগলগাঁও ইউনিয়ন চানপুর উত্তর জিলকার হাওর, কান্দিগাঁও ইউনিয়ন লামারগাঁও উত্তর চানপুর বন ঘুরে কৃষি জমির মাটি টপসয়েল অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করার সত্যতা পাওয়া গেছে।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, অভিযোগ প্রাপ্তি নিশ্চিত করে বলেন, অবৈধভাবে কৃষি জমির টপসয়েল এবং গোচারণ ভূমির মাটি কাটা রোধে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে। পাশাপাশি থানা পুলিশ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকেও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষ গোচারণ ভূমির মাটি কাটায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন বলেও প্রতিবেদককে জানান।
