জাস্টিস বাংলা ডেস্কঃ কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা তার কাছে ‘ভালোই শোনায়’।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পিছপা হবেন না। কলম্বিয়ার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান ও সীমান্তসংক্রান্ত নানা ইস্যু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, যদি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়, তাহলে সেটা আমার কাছে ভালোই শোনায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নেওয়া দরকার।
যদিও তিনি স্পষ্ট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেননি, তবে তার এই বক্তব্য লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র–কলম্বিয়া সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই কলম্বিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা বিষয়টিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, কলম্বিয়া দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। মাদকবিরোধী যুদ্ধ ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সামরিক অভিযানের মতো বক্তব্যকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকে।
এর আগেও ট্রাম্প তার প্রেসিডেন্সির সময় লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছিলেন। বিশেষ করে মাদক পাচার ও অভিবাসন ইস্যুতে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা তিনি একাধিকবার উত্থাপন করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসন্ন মার্কিন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, শক্ত অবস্থান ও সামরিক ভাষা ব্যবহার করে নিজের সমর্থকদের কাছে কঠোর নেতৃত্বের বার্তা দিতেই তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।