ঢাকা প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির অন্যতম নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে অসম করে তুলতে পারে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা-১০ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে ধানমন্ডিতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন,
‘আমরা যদি অবাধে চলাফেরা করতে না পারি, তাহলে নির্বাচন প্রচারণায় বড় ধরনের পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শুধু আমি নই, যারা ঝুঁকির মধ্যে আছেন—তাদের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে অর্জিত অভিজ্ঞতা জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান।
‘এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। আমরা শিখেছি কীভাবে সমস্যার সমাধান করতে হয় এবং কোন দপ্তর কোন কাজের জন্য দায়ী—এ বিষয়গুলো বাস্তবভাবে বুঝেছি,’ বলেন তিনি।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন,
‘বিভিন্ন গোষ্ঠী নির্বাচন বানচাল করতে চায়। তারা আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দিতে চায় না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এখন দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি তাদের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলমকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসিম উদ্দিন সরকারকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তার আগে ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তিনি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
