নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) এর আকবরশাহ থানা পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও বিশেষ অভিযানে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছিনতাইকৃত সিএনজি চালিত অটোরিকশা উদ্ধার এবং এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে।
মামলার বাদী মাহবুব আলম (৩০) জানান, তার সিএনজিটি চালাতেন মোঃ রিপন (৪২)। গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত ১১টা ২০ মিনিটে রিপন বায়েজীদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন মোড় থেকে যাত্রীবেশে থাকা জামশেদ উদ্দীন (৩৬)সহ অজ্ঞাত তিনজনকে আকবরশাহ থানাধীন কর্নেলহাট এলাকায় ভাড়ায় নেন।
পরবর্তীতে রাত ৯ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ঈশান মহাজন রোড এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীরা ড্রাইভার রিপনের ওপর হামলে পড়ে। তারা রিপনের পেটে ছোরা ধরে মারধর করে, পরে তাকে স্থানীয় এক মুরগির ফার্মের পেছনে নিয়ে গেঞ্জি দিয়ে চোখ বেঁধে এবং রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। ছিনতাইকারীরা রিপনের কাছ থেকে সিএনজি (রেজিঃ চট্ট-থ-১৩-৯৯৫০), তার ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ও নগদ ১,৯০০ টাকা ছিনিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ড্রাইভার রিপন প্রাণে বাঁচার পর বিষয়টি সিএনজির মালিককে জানালে তিনি আকবরশাহ থানায় মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর আকবরশাহ থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব আরিফুল ইসলাম এর নির্দেশে এসআই মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে।
অভিযান দলটি ৯ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ইপিজেড থানা পুলিশের সহায়তায় ইপিজেড থানাধীন ব্যাংক কলোনীর বড় মিয়ার পুরাতন বাড়ির আলীশাহ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মোটর ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে প্রধান ছিনতাইকারী জামশেদ উদ্দীন (৩৬)-কে গ্রেফতার ও ছিনতাইকৃত সিএনজিটি উদ্ধার করে।
গ্রেফতারকৃত জামশেদ উদ্দীন নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িচর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নিউ মুরিং কাঁচা বাজার সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানায়, তিনি একজন পেশাদার ছিনতাইকারী এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বে ছিনতাই ও চুরির ৬টি মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় বাদীর এজাহারের ভিত্তিতে আকবরশাহ থানায় নিয়মিত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামীকে যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
