আমদানির পরও পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা

সরবরাহ কম, সিন্ডিকেটের কারসাজিতে ভোক্তা হতাশ

by The Justice Bangla

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভারত থেকে গত দুই দিনে ৩ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি নতুন পেঁয়াজেরও বিপুল সরবরাহ বাজারে এসেছে। তারপরও রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখি। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ বাজার মনিটরিং না থাকায় সিন্ডিকেট ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়িয়ে লুটপাট চালাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (মনিটরিং ও বাস্তবায়ন) ড. জামাল উদ্দীন আমার দেশকে বলেন, ব্যবসায়ীরা দাবি করেছিলেন আমদানি করলে ৪০–৫০ টাকায় পেঁয়াজ খাওয়াবেন। অথচ এখন ৪০ টাকার আমদানিকৃত পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন। এটা সম্পূর্ণ অরাজকতা ছাড়া আর কিছু নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারত থেকে আমদানি করে স্থানীয় বাজারে আনতে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পড়ার কথা। কিন্তু আমদানিকারকরা ৬০–৭০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি মুনাফা তুলছেন, যা অনিয়ম ও বাজারে অস্থিরতার প্রধান কারণ।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক গ্রুপের সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম শহীদ অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন মুখ চিনে মাত্র ৫০ জনকে আইপি দেওয়া হচ্ছে। আইপি উন্মুক্ত করে দিলে সরবরাহ বাড়বে, দামও কমবে। তিনি দাবি করেন, আমদানিকৃত পেঁয়াজের প্রকৃত খরচ কেজিতে ৫০–৫৫ টাকার বেশি নয়, অথচ তা খুচরা বাজারে ১১০–১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সভাপতি মহসিন মিলন ও হিলি বন্দর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পীও একই অভিযোগ তুলে জানান আইপি সীমিত রাখায় বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ তৈরি হচ্ছে না।

দুইদিনে দাম বেড়ে ৩০–৪০ টাকা
রোববার বাড়তি সরবরাহে নতুন পেঁয়াজের দাম নেমে এসেছিল ৬০–৭০ টাকায়। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে সরবরাহ কমে তা আবার দাঁড়ায় ৯০ টাকা। পাইকারিতে পুরাতন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১২০–১৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ টাকা।

খুচরা বাজারেও একই চিত্র পুরাতন পেঁয়াজ: ১৩০–১৪০ টাকা নতুন পেঁয়াজ: ১০০ টাকা,ভারতীয় পেঁয়াজ: ১২০–১২৫ টাকা

কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, ১৪০ টাকায় বিক্রি করেও আমরা কিছু ক্ষেত্রে ২–৩ টাকা লোকসান গুণছি। দুইদিন ধরে সরবরাহ কমে দাম আবার বাড়ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ী আশরাফ হোসেন বলেন, রোববার ক্রেতা কম থাকায় মোকামে পেঁয়াজ কম আসে। ফলে সোমবার চাহিদা বাড়তেই দাম লাফিয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সরবরাহ আরও কমে যায় এর ফলেই দাম বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) উন্মুক্ত করা, পাইকারি বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙা, কার্যকর বাজার তদারকি নিশ্চিত করা

এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে পেঁয়াজের বাজার দ্রুত স্থিতিশীল হবে। নইলে আমদানি ও উৎপাদন বাড়লেও দাম কমার কোনও নিশ্চয়তা নেই।

ফলে সাধারণ ভোক্তাদের কষ্ট বাড়ছেই কবে স্থির হবে পেঁয়াজের বাজার, সে উত্তর এখনও অনিশ্চিত।

You may also like

Leave a Comment