পরশুরাম, প্রতিনিধিঃ পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে সম্প্রতি পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তা রেজওয়ানা চৌধুরী শেষ পর্যন্ত এ উপজেলায় যোগদান করবেন না। প্রশাসনিক সমন্বয়, অভ্যন্তরীণ রদবদল এবং ব্যক্তিগত–দাপ্তরিক বিবেচনায় তিনি দায়িত্ব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে পরশুরাম উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ নির্বাহী পদটি সাময়িকভাবে শূন্য হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আগেই, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম সাফায়াত আখতার নূর ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিদায়ী ইউএনও মোহাম্মদ মোশারফ হোসাইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই, পরশুরামের প্রশাসনিক কাঠামো যেন ছন্দ হারিয়ে না ফেলে সে লক্ষ্যে সমন্বয় বৈঠকসহ প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক নির্দেশনা দেন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও সাফায়াত আখতার।
মাত্র ১৫ দিন আগে পরশুরামের ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেও, কর্মব্যস্ততা ও প্রশাসনিক পরিকল্পনার কারণে বিদায়ী ইউএনও মোশারফ হোসাইন আজ সকালে ইতোমধ্যে পরশুরাম ছেড়ে গেছেন। তিনি বিদায়ের সময় অফিস সহকর্মীদের উদ্দেশে বলেন এখানকার মানুষের আতিথেয়তা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং দায়িত্ব পালনের সুযোগ আমি স্মরণ রাখবো। যে যেখানে দায়িত্বে থাকি, জনসেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
জানা যায়, এর আগে বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাতে বাংল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরশুরামে ইউএনও হিসেবে কাজী তাহমিনা শারমিন–কে পদায়নের আদেশ জারি করেছিল। কিন্তু মাত্র ২–৩ ঘণ্টার মধ্যেই সেই আদেশ স্থগিত করা হয়। একই রাতে নতুন ইউএনও হিসেবে রেজওয়ানা চৌধুরীকে পদায়ন করা হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করে—তিনি পরশুরামে যোগদান করছেন না। এই দ্রুত রদবদল পরশুরাম উপজেলা প্রশাসনের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।
কে এই নতুন ভারপ্রাপ্ত ইউএনও?
এস এম সাফায়াত আখতার নূর ২০২৩ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পরশুরামে যোগদানের পর থেকেই প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসংযোগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিক সেবায় আন্তরিকতার জন্য ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। ভূমি প্রশাসনে ডিজিটাল সেবা নিশ্চিতকরণ, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা, অবৈধ দখল উচ্ছেদে নিয়মতান্ত্রিক পদক্ষেপ এবং পৌর প্রশাসনে ভারসাম্যপূর্ণ সমন্বয়ের কারণে তিনি অল্প সময়েই সাধারণ মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
বর্তমানে তিনি একাধারে পরশুরাম সহকারী কমিশনার (ভূমি), পরশুরাম উপজেলা ভূমি অফিস–এর প্রধান, এবং পরশুরাম পৌরসভা–এর পৌর প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এমন বাস্তব অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতার কারণেই তাকে ইউএনও’র ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরশুরাম পৌরসভার সাবেক একজন জনপ্রতিনিধি বলেন প্রশাসনের শীর্ষ পদে যখন এত দ্রুত পরিবর্তন আসে, তখন কাজ সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু সাফায়াত আখতার নূর দায়িত্ব নেবেন শুনে আমরা আশ্বস্ত। তিনি মাঠ প্রশাসন বোঝেন, মানুষের কথা শোনেন, কাজ দ্রুত করেন।
একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন ভূমি অফিস ও পৌরসভায় তার কাজের গতি দেখে আমরা মুগ্ধ। এখন ইউএনও’র দায়িত্বেও যদি তিনি একই আন্তরিকতা ধরে রাখেন, তাহলে উপজেলার চলমান সংকট দ্রুত সমাধান পাবে।
নতুন দায়িত্ব লাভ করায় সাফায়াত আখতার নূরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক, ছাত্র–জনতা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়ী মহল এবং সামাজিক নেতৃবৃন্দ। তারা আশা প্রকাশ করেন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান এবং নাগরিক প্রশাসন আরও গতিশীল করতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় এস এম সাফায়াত আখতার নূর উপজেলা প্রশাসনের সব দাপ্তরিক কার্যক্রম, সমন্বয়, সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ইউএনও’র নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো অনুসারে পরিচালনা করবেন। জনসেবা বিঘ্নিত না করে প্রশাসনকে সচল রাখাই তার প্রথম লক্ষ্য বলে নিশ্চিত করেছেন প্রশাসনিক সূত্র।
