চট্টগ্রাম ব্যুরোঃ চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ পাইপলাইন প্রকল্প, যা শহরকে স্বাস্থ্যকর নগরীতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়ে চালু হয়েছে, সেখানে এক সন্ত্রাসী ব্যক্তি সরকারি প্রকল্পে বাধা ও হুমকির মাধ্যমে ভয়-ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা সরাসরি জানিয়েছেন সারোয়ার আলম জুয়েল নামে এক ব্যক্তি প্রকল্পে বাধা দিয়ে বলেছেন,
রক্তের বন্যা বইয়ে দেব, কেউ এগোতে পারবে না।
মনছুরাবাদ পশ্চিম পাড়া এলাকায় পাইপলাইন বসানোর সময় জুয়েল এবং তার সহযোগীরা নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে বাধা দিচ্ছেন।
মোবাইলে হুমকি দেওয়ার সময় জুয়েল জানান এটি আমার ব্যক্তিগত রাস্তা, এখানে কোনো সরকারি কাজ চলতে দেওয়া হবে না। কোর্টকে এসে আমাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
তবে কাগজপত্র ও আদালতের নথি অনুযায়ী, এটি একটি এজমালি রাস্তা, যা জনসাধারণের চলাচলের জন্য ২০১২ সালের কোর্টের আদেশে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অর্থাৎ, জুয়েল এক দশকের বেশি সময় ধরে আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে সরকারি ও জনসাধারণের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
জুয়েলের পাশে রয়েছেন স্থানীয় পাতি নেতা রুবেল, যিনি ওয়াসা সুয়ারেজ প্রকল্পের লোকাল কন্ট্রাক্টর। ধারণা করা হচ্ছে, তার আশকারা পাওয়ার কারণে জুয়েল আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়েল প্রতিপক্ষের চলাচলের জন্য পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। যদিও পরে তিনি তা অস্বীকার করেন, কিন্তু এলাকায় তার দাপট অব্যাহত।
রাস্তাটি দখল ও বাধার কারণে স্থানীয় মানুষদের কবরস্থান পর্যন্ত মরদেহ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান এই এলাকার বিল্ডিংগুলো কোনো সরকারি প্ল্যান ছাড়া যে যার মতো নির্মাণ করেছে। জুয়েলও যা খুশি তাই করছে, বাধা দেওয়ার কেউ নেই।
এলাকার মানুষদের মতে, এই সন্ত্রাসী চক্র প্রকল্পের জনগণবান্ধব বাস্তবায়নকে বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।
একজন আইনজীবী মন্তব্য করেছেন জুয়েল সরকারি কাজে বাধা ও হুমকি প্রদানের মাধ্যমে সিআরপিসির ৩৩৯, ৩৪৯, ৩৫০, ৩৭৭, ৪০৩, ৪২৫, ৪৬৩, ১০৭, ১২০-ক, ১৯১ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এক সহকারী কমিশনার জানান
সরকারি কাজে বাধা দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পে যেকোনো হস্তক্ষেপ আইনত শাস্তিযোগ্য।
প্রকল্প পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, এই ধরনের দুষ্ট প্রকৃতির লোকেরা প্রকল্পে বাধা দিতে পারে, কিন্তু আমরা প্রতিটি বাড়ি সুয়ারেজ প্রকল্পের আওতায় আনব। প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
স্থানীয়রা জানান, যদি এই সন্ত্রাসী চক্রের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণে আনা না হয়, তাহলে হাজার কোটি টাকার সুয়ারেজ প্রকল্প জনবান্ধব না হয়ে জনদুর্ভোগে পরিণত হবে।
এখানেই থেমে থাকলে নয় সরকারি কাজে বাঁধা দেওয়ার এই ঘটনা চট্টগ্রামের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পকেও বিপদে ফেলতে পারে।
