ঢাকা প্রতিনিধিঃ কখনো হাতে কুরআন শরীফ, কখনো পর্দার আড়ালে সংযমী রূপ। ধর্মীয় ভাবমূর্তি তৈরি করেই উচ্চপর্যায়ের টার্গেট বাছতেন আলোচিত মডেল ও উদ্যোক্তা মেঘনা আলম। আটক হওয়ার পর তার একের পর এক অন্ধকার কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে, যা এখন ক্রাইম তদন্তের নতুন এক রহস্যগুহায় পরিণত হয়েছে।
তদন্ত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ীরা ছিলেন তার প্রধান লক্ষ্য। প্রথমে নরম ব্যবহারে সখ্য গড়ে তুলতেন মেঘনা। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতায় পরিণত করতেন সম্পর্ক। পরিকল্পনার শেষ ধাপে তৈরি হতো ফাঁদ: সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো গোপনে ধারণ করতেন ভিডিওতে।
এই ভিডিওগুলোকেই পরে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতো। মোটা অঙ্কের টাকা আদায় ছিল তার ও সহযোগীদের নিয়মিত ব্যবসা। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্বল মুহূর্তগুলোকে পুঁজি করে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের এমন জাল গড়ে তুলেছিলেন, যা ভেঙে দিতে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, তার পেছনে একটি সুসংগঠিত দল কাজ করত, যারা টার্গেট নির্বাচন থেকে টাকা লেনদেন—সবকিছু পরিচালনা করত অত্যন্ত পেশাদারভাবে।
মেঘনা আলমের গ্রেপ্তারকে ঘিরে রাজধানীতে চলছে তুমুল আলোচনা। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শুধু একজন মডেলের বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বরং উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের জড়িত করে ভয়ংকর এক ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের বন্ধ দরজা খুলে যাওয়ার সূচনা।