সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম বহাল তবিয়তে নাদেল সিন্ডিকেট

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের দোসররা পদায়িত কবে ফ্যাসিবামুক্ত হবে সিলেটের ক্রীড়াঙ্গণ

by The Justice Bangla

 

আহমদ পাবেল, সিলেটঃ সিলেটের ক্রীড়াপ্রেমীরা আজ চরম ক্ষুব্ধ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়। বিগত সাড়ে ১৫ বছর সিলেটের ক্রীড়াঙ্গণে চেপে বসেছিল আওয়ামীলীগে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সিন্ডিকেট। ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদ পালিয়ে যাওয়ার একবছর পরও এই স্টেডিয়ামের পদে পদে বসে আছেন ফ্যাসিবদের সময়ের কর্মকর্তা-কমচারীরা। এখন সিন্ডিকেটমুক্ত হতে পারেনি বিসিবির এই ভ্যানুটি। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‍‌‌নাদেল সিন্ডিকেট‍ স্টেডিয়ামের ভেতরে-বাইরে নানা প্রভাব বিস্তার করে রেখেছে।

বিসিবির নিয়ন্ত্রণাধীন এই স্টেডিয়ামের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারে এই সিন্ডিকেটের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে বহুবার। এখন তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অভিযোগ রয়েছে, তারা মাঠে প্রবেশ, টিকিট ব্যবস্থা, এমনকি বিভিন্ন ভেন্ডর নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করছে। এর ফলে সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমী থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনায় ভেন্যু ম্যানেজার হিসেবে রয়েছেন জয়দীপ দাস সুজক। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সময় ছাত্রজনতার উপর হামলার মামলা সহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তার সহকারী মনজ কান্তিও এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা।

স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে আছেন মোঃ ইকরাম চৌধুরী। মিডিয়া সংক্রান্ত বিষয়েও কাজ করছেন আগের সিন্ডিকেটের সদস্যরা । এসব দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নাদেল সিন্ডিকেটের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিলেটের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- জাতীয় সম্পদে সিন্ডিকেটের দখলদারিত্ব কেন চলবে? কবে তাদের সরানো হবে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রীড়াপ্রেমী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা চাই সিলেটের মাঠ হোক খেলার জায়গা, কারো অবৈধ দখল নয়। এভাবে চলতে থাকলে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে।

এতদিন ধরে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা রহস্যজনকভাবে নীরব। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ বিষয়ে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে নানান প্রশ্ন উঠছে-প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে কি প্রশাসন অসহায়?

স্থানীয় ক্রীড়াসংগঠন ও সচেতন মহল অবিলম্বে নাদেল সিন্ডিকেটের দখলদারিত্ব তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানাচ্ছে তারা।

একজন তরুণ খেলা প্রেমী জানান, এখানে যারা সিন্ডিকেটে জড়িত, তারা সাধারণ মানুষকে সুযোগ দেওয়ার পরিবর্তে তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে পড়বে। আমরা চাই, সিলেটের স্টেডিয়াম যেন আমাদের জন্য সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়, যাতে আমরা খেলাধুলায় নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম সদস্য (এডহক কমিটি) ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরীকে একধিকবার কল করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আহবায়ক (এডহক কমিটি) ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীকে একধিকবার কল করলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

You may also like

Leave a Comment