নিজস্ব প্রতিনিধি,সিলেটঃ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে ও তাঁদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে সিলেট জেলা বিএনপি। সোমবার বিকেলে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
‘জুলাই বিপ্লব’-এর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাঁদের পরিবারের ত্যাগকে স্বীকৃতি জানাতেই এ আয়োজন করে দলটি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নির্বাচনের মাধ্যমেই পরিবর্তন মির্জা ফখরুল
বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন,
নির্বাচিত সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কিছু হতে পারে না। তাই এখন দরকার একটি সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচি পৌঁছে দিতে হবে ঘরে ঘরে।
তিনি আরও বলেন,
“শেখ হাসিনা এমনি এমনি পালিয়ে যাননি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্ত। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। বেগম খালেদা জিয়া এখনো অসুস্থ অবস্থায় থেকেও আমাদের প্রেরণার উৎস।”
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার
বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“শুধু গত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ৩৬ দিনে শহীদ হয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২০ হাজার।
শহীদদের ত্যাগ বৃথা যাবে না। শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, সন্তানের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘একটি নতুন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন,
আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে থাকবে না দুঃশাসন, বৈষম্য কিংবা দমন-পীড়ন। থাকবে ন্যায়বিচার ও সবার জন্য সমান সুযোগ।
উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ও অনুষ্ঠান সূচনা
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন:
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, স্থায়ী কমিটির সদস্য
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিএনপি নেত্রী
ড. এনামুল হক চৌধুরী,ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন
জি কে গউস, সাংগঠনিক সম্পাদক
কলিম উদ্দিন মিলন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
মিফতাহ্ সিদ্দিকী,
নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য
আবুল কাহের চৌধুরী শামীম,
মিজানুর রহমান চৌধুরী,
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জেলা উলামা দলের সদস্য সচিব হাফেজ কামাল উদ্দিন।
এই আয়োজনের মাধ্যমে শহীদদের ত্যাগকে স্মরণ ও স্বীকৃতি জানানো হয়েছে, যা আগামী আন্দোলনে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন দলের নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকারও তুলে ধরেন নেতারা।
