মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী, কক্সবাজারঃ কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মাদকের নেশায় আসক্ত হয়ে নিজের চার বছরের কন্যা সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন এক পিতা। হত্যার পর মরদেহ পাশের নদীতে ফেলে দেন তিনি।

শনিবার (৬ জুলাই) রাত ৯টার দিকে উখিয়ার ৯নং ওয়ার্ড মনখালী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম কানিজ ফাতেমা জুতি। ঘাতক পিতার নাম আমান উল্লাহ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্ত অবস্থায় পারিবারিক কলহের জেরে আমান উল্লাহ তার মেয়ে জুতিকে লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই মারা যায় নিষ্পাপ শিশুটি। পরে ঘাতক পিতা নিজের অপরাধ লুকাতে মরদেহটি পাশের নদীতে ফেলে দেন।
ঘটনার পর আমান উল্লাহ নিজ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা ঘরের চালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং জানান, ঘটনার সময় তিনি মাদক সেবনে ছিলেন।
ঘাতকের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এলাকাবাসীর সহায়তায় প্রায় ৩০-৪০ জন লোক নদীতে খোঁজাখুঁজি করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে রাত ১টার দিকে থানায় আনা হয়েছে এবং ঘাতক পিতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকা শোকস্তব্ধ। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে।
একইসঙ্গে ঘাতক পিতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
