সিলেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে স্ক্যাবিস, আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে

by The Justice Bangla

এমদাদ হোসেন ভুঁইয়া, সিলেটঃ  সিলেট শহর ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে চর্মরোগ স্ক্যাবিস, যা স্থানীয়ভাবে ‘খোসপাঁচড়া’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে আসা রোগীদের বড় একটি অংশ এই ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে স্ক্যাবিসের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, গত দুই-তিন মাস ধরে স্ক্যাবিস ছড়িয়ে পড়ছে সিলেটের বিভিন্ন এলাকায়। বর্তমানে এর বিস্তার আরও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। অনেক রোগী ডাবল ডোজ ওষুধ গ্রহণ করার পরও আশানুরূপ ফল পাচ্ছেন না।

চিকিৎসকদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশ, অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতা, এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব স্ক্যাবিস ছড়ানোর প্রধান কারণ। একজন সদস্য আক্রান্ত হলে ধীরে ধীরে পুরো পরিবার আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ থামানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

শামীমাবাদ এলাকার বাসিন্দা জাহিদুল হক বলেন, “প্রথমে আমাদের পরিবারের একটি শিশু আক্রান্ত হয়। এরপর একে একে সবাই। চিকিৎসা নিয়েও ভালো হচ্ছে না।”

টিলাগড়ের আমির হোসেন জানান, “পরিবারের সবাই আক্রান্ত। ওষুধ ও লোশন ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না।”

জকিগঞ্জ উপজেলার ফয়েজ আহমদের পরিবারে একই অবস্থা। “চারটি শিশু খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত। বন্যার পর পানি আসার পর অন্য সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন,” বলেন তিনি।

চিকিৎসা সংকট ও ওষুধের ঘাটতি

জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শেখ মো. আব্দুল আহাদ জানান, “গত তিন মাসে প্রতিদিন গড়ে ৮০ জন স্ক্যাবিস আক্রান্ত রোগী আসছেন। ডাবল ডোজ দেয়ার পরও অনেক সময় রোগ ভালো হচ্ছে না। একপর্যায়ে ওষুধ সংকটও দেখা দিয়েছিল, পরে তা কিছুটা কাটিয়ে উঠেছি।”

গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুদর্শন সেন বলেন, “প্রতিদিনই অনেক স্ক্যাবিস রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। ট্যাবলেট ও মলম থাকলেও লোশনের ঘাটতি রয়েছে, ফলে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না।”

সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান জানান, “স্ক্যাবিস নতুন নয়, এটি বহু পুরাতন এবং নিরাময়যোগ্য। তবে সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি ইনফেকশন হয়ে জটিলতায় পরিণত হতে পারে।”

এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, “গরমকালে স্ক্যাবিসের প্রকোপ বাড়ে। এটি ছোঁয়াচে হলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে প্রতিরোধ সম্ভব। এটি নিরাময়যোগ্য রোগ, তবে সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসা না হলে সংক্রমণ ব্যাপক আকার নিতে পারে।”

জনসচেতনতাই প্রধান অস্ত্র

চিকিৎসকরা বলছেন, স্ক্যাবিস প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আক্রান্তদের কাপড় ও বিছানাপত্র গরম পানিতে ধুয়ে ফেলা, এবং পরিবারের সবাইকে একইসাথে চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহিত করা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সতর্ক না হলে সিলেটে স্ক্যাবিস এক ভয়াবহ চর্মরোগ মহামারিতে রূপ নিতে পারে।

You may also like

Leave a Comment