রাশিয়ার নতুন মারণাস্ত্র ‘সাবসনিক মেসেঞ্জার’

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা মিত্রদের কপালে চিন্তার ভাঁজ

by Samir Khan

প্রীতম সরকার: বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা কোনো নতুন বিষয় নয়। পরমাণু শক্তিধর এ দুই পরাশক্তির মধ্যে প্রযুক্তিগত ও সামরিক আধুনিকতার দৌড়ে একে অপরকে পেছনে ফেলার চেষ্টা দীর্ঘদিনের। যুদ্ধের ময়দানে কে কতটা শক্তিশালী- এই প্রশ্ন সবসময়ই থাকে আলোচনার কেন্দ্রে।

সেই আলোচনাতেই যেন নতুন মাত্রা যোগ করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবার আকাশপথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সামনে এনেছেন এক অত্যাধুনিক বোমারু যুদ্ধবিমান- ‘সাবসনিক মেসেঞ্জার’।

এটি মূলত পরবর্তী প্রজন্মের স্টিল্থ কৌশলগত বোমারু বিমান, যার প্রকৃত নাম Tupolev PAK DA।

সাবসনিক মেসেঞ্জার

বর্তমানে এই বিমানটিকে বলা হচ্ছে ‘আকাশের ঘুমন্ত ড্রাগন’। কারণ এটি প্রায় অদৃশ্য থেকে শত্রুপক্ষের রাডারকে ফাঁকি দিয়ে একটানা ৩০ ঘণ্টা আকাশে থাকতে সক্ষম। এছাড়া এটি ৩০ টন পর্যন্ত অস্ত্র বহনে পারদর্শী, যা একে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।

বিশেষ ডিজাইনের জন্য বিমানটি প্রায় অদৃশ্য থেকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে। এটি প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। এছাড়াও এতে যুক্ত করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, এই বিমানই ভবিষ্যতে আকাশপথে রাশিয়ার আধিপত্য নিশ্চিত করবে।

‘মেসেঞ্জার’ শব্দের বাংলা অর্থ বার্তাবাহক। রাশিয়ার এই নামকরণের মধ্য দিয়েই বিশ্বকে যেন একটি শক্ত বার্তা দেওয়া হয়েছে- রাশিয়া প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে নেই, বরং সামনে থেকেই খেল দেখাবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা ইতোমধ্যেই এই বিমানকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কারণ, রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বরাবরই ঠান্ডা, কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে টানাপোড়ন পূর্ণ।

জানা যায়, চলতি বছরেই বিমানটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে যাচ্ছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এটি রাশিয়ার বিমানবহরে যুক্ত।

এর আগে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সু-৫৭ ও যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ নিয়ে তুলনা চলছিল। এবার ‘সাবসনিক মেসেঞ্জার’ এসে সেই আলোচনায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা এর সামরিক তাৎপর্য নিয়ে ইতোমধ্যেই বিশ্লেষণ শুরু করেছেন।

রাশিয়ার এই নতুন পদক্ষেপ আবারও প্রমাণ করলো- বিশ্বশক্তির খেলায় চমক দেখাতে রাশিয়া এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।

You may also like

Leave a Comment