নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে দুর্বৃত্তের গুলিতে চিকিৎসাধীন সন্ত্রাসী আলী আকবর ওরফে ঢাকাইয়া আকবর (৩২) মারা গেছেন। রবিবার (২৫ মে) সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক।
এর আগে, শুক্রবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার পশ্চিম পয়েন্টের ১৮ নম্বর দোকানের সামনে আড্ডারত অবস্থায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা।
তবে গোলাগুলির ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও এখনো কোন মামলা হয়নি।
পুলিশ বলছে, এখনো থানায় কেউ মামলা করতে আসেনি। মামলা যেহেতু হয়নি আমরা কাউকে শনাক্তও করতে পারিনি।
জানা যায়, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ১৮ নম্বর দোকান বসে তিনচারজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিল ঢাকাইয়া আকবর। ঘড়ির কাটায় সময় তখন রাত আটটা। ঠিক তখনই মোহ মোহ গুলির শব্দে কেপে উঠে পুরো সৈকত। বাঁচাতে সৈকতের ওয়াকিং পয়েন্টের দিকে দৌড়ে পালালেও নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি আকবর। দুর্বৃত্তদের দক্ষ নিশানায় ঝাঁঝড়া হয়ে যায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশ।
আকবর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার মঞ্জু মিয়ার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির ১০টি মামলা রয়েছে। আকবর ‘সন্ত্রাসী’ ছোট সাজ্জাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত।

‘ঢাকাইয়া আকবর’
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চার থেকে পাঁচ জনের একটি দল মোটরসাইকেলে করে এসে আকবরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আকবর প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ানোর চেষ্টা করলেও গুলিবিদ্ধ হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, হামলার মুহূর্ত ছিল যেন সিনেমার দৃশ্য।
এ ঘটনায় ঢাকাইয়া আকবর ছাড়াও আরো দুজন পথচারী আহত হন। এদের মধ্যে একজন ৮ বছরের শিশু ও অপরজন ৩০ বছর বয়সি জান্নাতুল বাকী নামের এক যুবক। আহতরা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
আকবর মৃত্যুর আগে নিজের মুখে বললেন হামলাকারীদের নাম:
ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত আকবর কাঁদতে কাঁদতে নিজেই বলতে থাকেন, তাকে গুলি করেছে রায়হান, খোরশেদ, ইমন ও বোরহান।
গোলাগুলির ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও থানায় মামলা হয়নি জানিয়ে পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো কেউ মামলা করতে আসেনি। মামলা যেহেতু হয়নি আমরা কাউকে শনাক্তও করতে পারিনি। এজাহারের পর বাকিটা বোঝা যাবে।’
