ঢাকা, প্রতিনিধিঃ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির–এর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন ও প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী হিসেবে নিজেকে দাবি করা সাদিয়া আক্তার রাফি (রাফি/প্রিয়সী) নামের এক তরুণী এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। একই সঙ্গে Facebook–সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনাও দিয়েছেন।
অভিযোগ ও ভিডিও বক্তব্য থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি–এর নির্বাচন প্রচারণার সময় শিশির মনিরের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। ২০১৮ সালে মুঠোফোনে যোগাযোগের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগী অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ধানমন্ডি, ঢাকা, বাংলাদেশ–এর একটি চেম্বারে ডেকে নিয়ে তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন যে, শিশির মনির ইতোমধ্যে বিবাহিত।
এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে শিশির মনির তাকে জানান স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়, শিগগিরই ডিভোর্স দিয়ে তিনি ভুক্তভোগীকে বিয়ে করবেন। এমন আশ্বাসের ভিত্তিতে ২০১৯ সাল থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক চলতে থাকে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সর্বশেষ গত ৮ নভেম্বর ২০২৩, সন্ধ্যা ৬টার দিকে একই চেম্বারে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ওই দিন বিয়ের জন্য চাপ প্রদান করলে শিশির মনির ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগীকে মারধর করেন এবং ক্লার্ক নয়নের মাধ্যমে তাকে চেম্বার থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেছেন তরুণী।
তিনি ভিডিওবার্তায় দাবি করেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিশির মনির তাকে আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায় সে আমাকে বলছে টাকা নিয়ে আপস হও। কিন্তু আমি সেটা নিতে চাচ্ছি না।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আশ্বাসের কারণে তিনি এতদিন মামলা না করে কেবল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। তবে এখন বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি আইনি ও নৈতিক প্রতিকারের জন্য সরাসরি দেশের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হয়েছেন।
অভিযোগপত্রে শিশির মনিরের বাবা মুকিত মনির–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাকে অতীতে একটি যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি বলে উল্লেখ করা হলেও, এ তথ্যের আনুষ্ঠানিক সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
