বিশেষ প্রতিনিধি,সিলেটঃ সিলেটে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ জনগণের মুখে এখন একটাই নাম—ড. এ. কে. আবদুল মোমেন এবং তার স্ত্রী সেলিনা মোমেন। এক সময় দেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এই রাজনীতিক এবং তার স্ত্রী এখন স্থানীয় দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তীব্র জনআলোচনার কেন্দ্রে।
ঢাকাতেই আছেন ড. মোমেন
সংসদ সচিবালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ড. এ. কে. আবদুল মোমেন ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সংসদ অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি রাজধানীর এসকাটনের সরকারি বাসভবনে বসবাস করছেন এবং সিলেটে জনসমক্ষে না এলেও, আড়ালে স্থানীয় কিছু প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে নিশ্চিত করেছে একটি দায়িত্বশীল সূত্র।
সেলিনা মোমেনের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা
সাবেক ‘ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ হিসেবে পরিচিত সেলিনা মোমেনের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের পর তিনি সিলেট ছেড়েছেন এবং হয়তো বিদেশেও পাড়ি জমিয়েছেন। তবে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সেলিনা মোমেনের দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সাম্প্রতিক রেকর্ড আমাদের কাছে নেই। তবে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতিবিরোধী নাগরিক ফোরাম এবং যুব সমাজের ব্যানারে চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থানরত আন্দোলনকারী নেতা মাহমুদুল হাসান বলেন:
ড. মোমেন ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের প্রমাণ আমরা স্থানীয়ভাবে পেয়েছি—চিকিৎসা প্রকল্প, জমি অধিগ্রহণ, বিদেশি অনুদান, সবকিছুতে দুর্নীতির গন্ধ। আমরা চাই দুর্নীতিবিরোধী কমিশন (দুদক) সুষ্ঠু তদন্ত করুক। তাদের দেশত্যাগ রোধে সরকার যেন নজর রাখে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের এক উপপরিচালক জানান:
আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি এবং প্রাথমিক যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হলে তা গণমাধ্যমে জানানো হবে। প্রয়োজনে সাবেক মন্ত্রী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানো হতে পারে।
এছাড়া, সিলেটের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (NGO) প্ল্যাটফর্ম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে:
মোমেন ফাউন্ডেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর আর্থিক লেনদেন ও বিদেশি সাহায্যের স্বচ্ছতা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের একাংশ থেকে অস্বস্তি প্রকাশ পায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিনিয়র নেতা বলেন:
দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় আমরা চাই, যাদের বিরুদ্ধে জনগণের প্রশ্ন আছে, তারা যেন মুখোমুখি হয়ে জবাব দেন। পালিয়ে থাকা বা আড়ালে থাকা চলবে না।
অন্যদিকে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেন, “এই ঘটনা প্রমাণ করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করেই কিছু লোক বছরের পর বছর জনগণকে ঠকিয়ে গেছে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সেলিনা মোমেনের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। জনমনে প্রশ্ন, তদন্তে প্রভাব খাটানোর জন্য তারা কি এখন সময় কিনছেন?
এই পরিস্থিতিতে দুদক, প্রশাসন এবং সরকার যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না চালায়, তবে সিলেটের সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দুর্বল হবে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
