মোঃ এমদাদ হোসেন ভূইয়া, সিলেটঃ সিলেটের গোয়াইনঘাটে নৌপথে চাঁদাবাজি রোধে পরিচালিত যৌথবাহিনীর অভিযানে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে আটক করা হয়েছে চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা। উদ্ধার করা হয়েছে জিম্মি করে রাখা প্রায় দুই শতাধিক বালু বোঝাই বাল্কহেড।
রোববার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে উপজেলার ৪ নম্বর লেংগুড়া ইউনিয়নের গোয়াইন নদীতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
চাঁদাবাজ চক্রের নেতৃত্বে ‘আজমল বাহিনী’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লেংগুড়া গ্রামের ফয়সল আহমদের ছেলে আজমল হোসেনের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বালু বোঝাই নৌযান আটকে রেখে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছিল।
সরকার অনুমোদিত বালু মহাল থেকে উত্তোলিত বালু পরিবহনের সময় বাল্কহেডগুলোকে জিম্মি করে রাখা হয়। আজমলের নেতৃত্বে চক্রটি নৌপথে চাঁদা আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় ইজারাদারদের সাথেও একাধিকবার বৈঠকে বসে নিজেদের ‘সমন্বয়কারী’ পরিচয় দিয়ে দাবী তোলে, যা ব্যর্থ হয়।
দুই শতাধিক বাল্কহেড জিম্মি, এক হাজার শ্রমিক অবরুদ্ধ
প্রায় ১৫ দিন ধরে চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি থাকা দুই শতাধিক বাল্কহেড ও আনুমানিক এক হাজার নৌকা শ্রমিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী অভিযান চালায় এবং চাঁদাবাজদের হাত থেকে শ্রমিকদের মুক্ত করে।
৬ জন আটক, প্রধান আজমল পলাতক
অভিযান চলাকালে চক্রপ্রধান আজমল হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাঁর সহযোগী:
ইকবাল হোসেন ইমন (২১),কুদরত উল্ল্যা (৪৩)
তোফায়েল আহমেদ (২৬),বদর উদ্দিন (৪৫),রহিম উদ্দিন (৪৫),সুলেমান (৩০)
কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। অভিযানকারীরা তাদের কাছ থেকে চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও দুটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা জব্দ করে।
উপজেলা প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থান
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী বলেন
নৌপথে অবৈধ চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বাল্কহেড শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন
গোয়াইনঘাট থানার ওসি সরকার তোফায়েল আহমেদ বলেন,
চাঁদাবাজি ও সরকারী কাজে বাধার অভিযোগে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গণধোলাই ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ‘সাংবাদিক’ আহত
অভিযান চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কথিত সাংবাদিক হুমায়ুন আহমদ স্থানীয়দের হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হন।
তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন,
নিরক্ষর হুমায়ুন নিজেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ভাগিনা দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং এই চাঁদাবাজ চক্রের প্রধান পরিকল্পনাকারী।
এই অভিযান গোয়াইনঘাট এলাকার নদীপথে নিরাপদ পরিবহনের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং যৌথবাহিনীর সক্রিয় পদক্ষেপে সাধারণ নৌ-শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
