সিঙ্গাপুরে নিভে গেল এক প্রতিবাদী কণ্ঠ

চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির করুণ মৃত্যু

by The Justice Bangla

মোহাম্মদ সামিরঃ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, নির্ভীক প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি আর নেই। দূর সিঙ্গাপুরের মাটিতে, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে আজ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)

একটি প্রাণ শুধু নিভে যায়নি নিভে গেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে উচ্চারিত এক দৃঢ় কণ্ঠ, নিভে গেছে অসংখ্য সাধারণ মানুষের আশা ও সাহসের প্রতীক।

পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, রাজধানীতে নৃশংস হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে দেশীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পরিচর্যায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি চিরবিদায় নেন।

হাসপাতালের আইসিইউতে পড়ে থাকা সেই মানুষটি, যিনি একদিন রাজপথে দাঁড়িয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন আজ তার হৃদস্পন্দন থেমে গেছে। তার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই দেশে-বিদেশে নেমে আসে শোকের গভীর ছায়া। রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক সংগঠন, সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ নির্বাক হয়ে পড়েন এই বেদনাবিধুর খবরে।

শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন আপসহীন ও স্পষ্টভাষী একজন রাজনৈতিক কর্মী। শোষণ, নিপীড়ন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তার অবস্থান ছিল দৃঢ় ও নির্ভীক। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি কখনো পিছপা হননি। সেই সংগ্রামী মানুষটির জীবন শেষ হয়ে গেল সহিংসতার নির্মম আঘাতে যা গোটা জাতিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয় এটি একটি সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। প্রশ্ন উঠছে এই রাষ্ট্রে ভিন্নমত, প্রতিবাদ ও ন্যায়বোধের পরিণতি কি এমনই হওয়া উচিত?

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও মানবাধিকার সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তার আদর্শকে ধারণ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালের বিছানায় নিথর পড়ে আছেন সেই মানুষটি, যার চোখে ছিল স্বপ্ন, কণ্ঠে ছিল প্রতিবাদ আর হৃদয়ে ছিল দেশপ্রেম। তিনি চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন অগণিত প্রশ্ন, অশ্রু আর এক অসমাপ্ত লড়াই।

আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে শহিদদের কাতারে স্থান দেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই অসহনীয় শোক সইবার শক্তি দান করেন।

You may also like

Leave a Comment