চট্রগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও আংশিক সাতকানিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মসজিদে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর জোহাদিয়া দরবার মসজিদে জুমার নামাজে আগত মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে তিনি নিজেকে এলাকাবাসীর সন্তান ও ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক ফিরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন এবং উন্নয়ন, মানবকল্যাণ ও আসন্ন নির্বাচনে তাকে ম্যান্ডেট দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১৮ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে জসিম উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়,
আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই জসিম উদ্দিন। আপনারা জানেন, আমাকে এই ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। আমার মাধ্যমে আপনাদের কাছে এই প্রতীক ফিরে এসেছে। গত ২১ থেকে ২৩ বছর ধরে এই ধানের শীষ প্রতীকে কেউ ভোট দিতে পারেনি।
ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, গতবার উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচনে দল-মতনির্বিশেষে বৃহত্তর চন্দনাইশের মানুষ সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে আমাকে চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। আমি সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার জন্য আসিনি। আমি এসেছি মানুষের কল্যাণে, মানবকল্যাণে এবং অসহায়, গরিব, দুঃখী ও মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করতে।
এছাড়া বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন এই চন্দনাইশের উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সব কাজ করতে পারি। আমি সুন্নি জামাতের সুন্নি মতাদর্শের লোক। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে আপনারা আপনাদের সন্তান জসিমকে মূল্যবান ম্যান্ডেট দেবেন।
এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে মসজিদে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন,
‘আমি কোনো ভোট চাইনি। শুধু সবার কাছে দোয়া চেয়েছি। বিষয়টি আপনারা একটু পজিটিভভাবে লিখবেন।’
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
