সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার সকালে সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন, সারি-গোয়াইন ও ধলাই নদীর পানির সমতল মান বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কোনো পয়েন্টে এখনও পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়নি।
বুধবার সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে সিলেটজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের আবহাওয়া অফিস ১৯৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ২৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, আরও দু’একদিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে গতকাল সিলেট নগরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাছাড়াও উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার কিছু কিছু নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। গোয়াইন ঘাটের জাফলংয়েও হঠাৎ ঢল নেমে বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি ঢুকে যায়।
লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন জানান, ভারি বর্ষণ ও ভারত সীমান্ত এলাকায় কয়েকদিন থেকে বৃষ্টি হওয়ার কারণে পাহাড়ি ঢলের পানি সুরই নদী, আমরি ও সিঙ্গারীখাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গ্রামীণ জনপদে ঢুকে পড়ে। এতে করে প্রবল স্রোতে সুরইঘাট-বাঘরা, সুরইঘাট-মুলাগুল ও গোরকপুর সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঢলের পানি নেমে যাওয়ায় এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন বলেন, গতকাল ঢলের পানি উপচে পড়ে গ্রামীণ সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এখন নদ-নদীর পানি বাড়ছে।
বুধবার সকাল ১০টায় কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এখনও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তবে বিপৎসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার মতো অবস্থা না। তবুও আমরা প্রত্যেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ সব জনপ্রতিনিধিকে নিজেদের এলাকার খোঁজখবর রাখতে বলেছি।
